ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
মানুষের শরীর চুলকিয়েই মাসে ১৮ লাখ টাকা আয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিনব এক সেবা দিয়ে চীনের শেনঝেনে মাসে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আয় করছেন ৩২ বছর বয়সী ঝাং শিয়াওচিয়াও। ‘সুমা’ নামে তার চালু করা এই সেবায় গ্রাহকদের শরীর চুলকিয়ে দেওয়া হয়। মানসিক চাপ কমানো এবং ভালো ঘুমে সহায়তার জন্য এই সেবার প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ঝাংয়ের দুটি আউটলেট রয়েছে এবং সেখানে তার সঙ্গে কর্মীরাও কাজ করছেন।
‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের শুরুতে শেনঝেনের বাওআন জেলায় প্রথম ‘সুমা’ আউটলেট চালু করেন ঝাং। এর এক মাস পর ফুতিয়ান জেলায় দ্বিতীয় শাখা খোলেন তিনি।
দুটি দোকান থেকে ঝাংয়ের মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রতি ঘণ্টার সেবার জন্য গ্রাহকদের ৩০০ ইউয়ান দিতে হয়, যা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা।
তার দোকানে কর্মীরা বিশেষভাবে তৈরি সূচালো নখ ব্যবহার করেন। গ্রাহকরা ম্যাসাজ পার্লারের মতো বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন। এরপর কর্মীরা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশ চুলকিয়ে দেন।
ঝাং জানান, এই সেবার মূল উদ্দেশ্য মানুষের মানসিক চাপ কমানো এবং ঘুমের মান উন্নত করা। তার মতে, বড় শহরে বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চাপের মধ্যে থাকেন। ফলে শরীর চুলকানোর মতো আরামদায়ক সেবারও চাহিদা তৈরি হয়েছে।
চীনে আগে এ ধরনের কোনো ব্যবসা না থাকায় ঝাংকে নিজেকেই চুলকানোর বিভিন্ন কৌশল তৈরি করতে হয়েছে। তার দুই দোকান মিলিয়ে মাসে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান আয় হয়। গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ।
ঝাং বলেন, অনেক গ্রাহক সাধারণ ম্যাসাজের তুলনায় এই সেবাকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন। এ কারণে তারা নিয়মিত তার দোকানে ফিরে আসেন।
চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে জন্ম ঝাংয়ের। নতুন ধরনের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই আগ্রহী ছিলেন তিনি। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, একটি স্বল্পপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর এক বছরেই তিনি সাতটি ভিন্ন চাকরি করেন।
৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই সীমান্তপারের ই-কমার্স খাতে দুটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ঝাং। তবে কোনো কোম্পানিই খুব একটা সফল হয়নি। এরপর দুই বছর আগে ‘উই-মিডিয়া’ খাতে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি।
গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ভিডিও দেখার সময় একটি ভিডিও তার নজরে আসে। সেখানে এক নারী তার স্বামীর শরীরের চুলকানি চুলকিয়ে দিচ্ছিলেন। ভিডিওটির নিচে অনেক দর্শক মন্তব্য করেন, কেউ তাদের জন্যও এভাবে চুলকিয়ে দিলে তারা টাকা দিতে রাজি।
বিষয়টি ঝাংকে ভাবায়। একই সঙ্গে তার ছোটবেলার একটি স্মৃতিও মনে পড়ে যায়। ছোটবেলায় তার বাবা প্রায়ই তার পিঠ চুলকিয়ে দিতেন। এতে তিনি আরাম পেতেন এবং শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন। সেই স্মৃতি থেকেই মানুষের চুলকানি চুলকানোর দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন ঝাং।
এই ব্যতিক্রমী পেশা নিয়ে ঝাংকে প্রায়ই প্রশ্ন শুনতে হয় ‘চুলকানি চুলকানো কি সত্যিই একটি বৈধ পেশা?’ তবে এমন প্রশ্ন তার পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং পুরো চীনে ১০০টি শাখা খোলার পরিকল্পনা করছেন তিনি। একই সঙ্গে চুলকানি চুলকানোকে একটি স্বীকৃত ও পরিচিত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তার আরও বড় লক্ষ্য।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর