×

ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

COP31: তরুণদের তুরস্ক যাওয়ার দারুণ সুযোগ, জানুন বিস্তারিত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৩:৩৭:১৭

COP31: তরুণদের তুরস্ক যাওয়ার দারুণ সুযোগ, জানুন বিস্তারিত

পার্থ হক: নভেম্বরের ৯ থেকে ২০ তারিখ, ২০২৬ তুরস্কের উপকূলীয় শহর আনতালিয়া হয়ে উঠবে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশনের (UNFCCC) ৩১তম সম্মেলন, সংক্ষেপে COP31, এবার তুরস্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে "কপ অব দ্য ফিউচার" প্রতিপাদ্য নিয়ে। শুধু রাষ্ট্রনেতা বা কূটনীতিকদের জন্যই নয় এই সম্মেলনের দরজা খোলা আছে তরুণদের জন্যও, যদি তারা সঠিক পথ চেনেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন সাধারণ তরুণ যার কোনো সরকারি পদ নেই, বড় কোনো এনজিওতে চাকরি নেই সে কীভাবে এই বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছাতে পারে? উত্তরটা জটিল, কিন্তু অসম্ভব নয়।

পথ ১: YOUNGO তরুণদের নিজস্ব সাংবিধানিক পরিসর

UNFCCC-এর মধ্যে তরুণ ও শিশুদের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত অংশ আছে, যার নাম YOUNGO (Youth NGOs)। ২০১১ সাল থেকে এটি জাতিসংঘের কাছে তরুণদের আনুষ্ঠানিক কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃত। এখানে যোগ দিতে বয়সের কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই, তবে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। YOUNGO-তে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যে কেউ তাদের ওয়েবসাইট বা ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে সক্রিয় হতে পারেন। তবে শুধু সদস্য হলেই সরাসরি COP-এ প্রবেশাধিকার মেলে না এর জন্য দরকার পর্যবেক্ষক (observer) মর্যাদাসম্পন্ন কোনো সংগঠনের ব্যাজ।

পথ ২: পর্যবেক্ষক সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাজ

COP-এ প্রবেশের সবচেয়ে প্রচলিত পথ হলো UNFCCC-স্বীকৃত কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠন Youth4Nature-এর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এসব সংগঠন সীমিত সংখ্যক ব্যাজ পায় এবং তা তাদের সদস্য, সহযোগী বা জলবায়ু-সক্রিয় তরুণদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। আগে থেকে কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে তারা মনে করে। কখনো কখনো এসব সংগঠন খোলা আহ্বানের মাধ্যমেও অতিরিক্ত ব্যাজ বিতরণ করে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ব্যাজ পাওয়া মানেই কিন্তু ফান্ডিং পাওয়া নয়। যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ নিজেকেই জোগাড় করতে হতে পারে, তাই আবেদনের আগেই এই বাস্তবতা মাথায় রাখা জরুরি।

পথ ৩: নিজ দেশের প্রতিনিধিদলে যুব প্রতিনিধি

কিছু দেশ তাদের সরকারি প্রতিনিধিদলে "যুব প্রতিনিধি" (Youth Delegate) রাখে। কেউ যদি তার দেশের জলবায়ু-সংক্রান্ত কাজে ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত থাকে এবং নিজের সম্ভাব্য অবদান তুলে ধরতে পারে, তাহলে সরকারের কাছ থেকে "পার্টি" বা "ওভারফ্লো" ব্যাজ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে নিজ দেশের জলবায়ু মন্ত্রণালয় বা প্রতিনিধিদলের ফোকাল পয়েন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করাই প্রথম ধাপ।

পথ ৪: ফেলোশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

COP31-কে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তরুণ-কেন্দ্রিক কর্মসূচি চালু হয়েছে:

প্রি-COP31 যুব সংলাপ: অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ও UNICEF-এর যৌথ আয়োজনে ফিজির নাদিতে এমন একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের থাকা-খাওয়া, বিমান ভাড়া, ভিসা সব খরচ পুরোপুরি বহন করা হয়।

কপ৩১ ফেলোশিপ: গ্লোবাল সাউথের তরুণদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত একটি কর্মসূচি, যা শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, বরং সরাসরি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

তুরস্কের জাতীয় আইডিয়াথন: ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জলবায়ু সমস্যার বাস্তব সমাধান তৈরি করে দলগতভাবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ থাকে।

YOUNGO-UNFCCC ACE হাব যুব ইভেন্ট: শিক্ষা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের মতো নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করা তরুণদের জন্য বন-ভিত্তিক এই আয়োজন।আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও গ্রিন জোন

সরাসরি নেগোসিয়েশনে অংশ না নিয়েও COP31-এর সাথে যুক্ত হওয়ার একটি সহজ পথ হলো গ্রিন জোন। এটি জলবায়ু উদ্ভাবনের প্রদর্শনী, দেশভিত্তিক প্যাভিলিয়ন, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত অংশ, যেখানে ব্যবসায়ী মহল, নাগরিক সমাজ, একাডেমিয়া ও যুব সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। যারা প্রথমবার COP অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সূচনা-বিন্দু হতে পারে।

বাস্তবতা: কাজ শুরু হয় বছরখানেক আগে থেকেই

Youth4Nature-এর একজন তরুণ জলবায়ু কর্মীর অভিজ্ঞতা এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, বড় বড় সুযোগ যেমন জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব রাউন্ডটেবিলে আমন্ত্রণ হঠাৎ করে আসেনি; বরং দীর্ঘদিন YOUNGO-র সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিয়মিত অবদান রাখার ফলেই এই স্বীকৃতি এসেছে। অর্থাৎ, COP-এর দুই সপ্তাহের আগে নয়, বরং তার অনেক আগে থেকেই নেটওয়ার্কিং ও সক্রিয়তা শুরু করা দরকার।

সংক্ষেপে করণীয়

১. YOUNGO-তে যোগ দিন বিনামূল্যে, ৩৫ বছরের নিচে যে কেউ পারেন। ২. UNFCCC-স্বীকৃত কোনো পর্যবেক্ষক সংগঠন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করুন। ৩. নিজ দেশের জলবায়ু মন্ত্রণালয়/প্রতিনিধিদলের সাথে যোগাযোগ রাখুন। ৪. ফেলোশিপ ও ফান্ডেড কর্মসূচির আবেদনের সময়সীমা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। ৫. ব্যাজ পেলেই যাত্রা খরচ নিশ্চিত এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন; আর্থিক পরিকল্পনা আলাদাভাবে করুন।

COP31-এ যাওয়া কোনো এক রাতের সিদ্ধান্ত নয় এটি একটি প্রক্রিয়া, যা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু বিষয়ে সক্রিয় হওয়া থেকে। যে তরুণ আজ নিজের এলাকায় ছোট পরিসরে কাজ শুরু করছেন, আগামী বছরের কোনো এক সম্মেলনে তিনিই হয়তো বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত