ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
জ্বরে দ্রুত সুস্থ হতে কী খাবেন, জেনে নিন
ডুয়া ডেস্ক: জ্বর হলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। এ সময় অনেকে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, আবার দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় ভারী খাবার, মিষ্টি বা বিভিন্ন ধরনের পানীয় বেশি খেতে শুরু করেন। তবে জ্বরের সময় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে খাবার ও পানীয়ের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ সময়ে শরীরে পর্যাপ্ত পানি, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি সরবরাহ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ক্ষুধা কম থাকলে একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়া যেতে পারে।
প্রথমেই নজর দিন পানির দিকে
জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘাম হতে পারে। আবার বমি বা ডায়রিয়া থাকলে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ আরও বেশি বেরিয়ে যায়। এতে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই জ্বর হলে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। একবারে বেশি পানি পান করতে অসুবিধা হলে অল্প অল্প করে বারবার পান করা যেতে পারে। পাতলা স্যুপ ও ডাবের পানিও শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। বমি বা ডায়রিয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস নেওয়া যেতে পারে।
ভাত-খিচুড়ি হতে পারে সহজ সমাধান
জ্বরে ক্ষুধা কমে গেলেও খাবার পুরোপুরি বন্ধ করা ঠিক নয়। এ সময় নরম ভাত, পাতলা খিচুড়ি, ডাল, সেদ্ধ আলু কিংবা নরম করে রান্না করা সবজি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে শক্তি জোগাতেও সহায়তা করে।
খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল বা মসলা না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা ডায়রিয়া থাকলে হালকা খাবার তুলনামূলক বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
শুধু ভাত নয়, প্রোটিনও চাই
জ্বরের সময় শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সঙ্গে ডিম, মাছ বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে।
ক্ষুধা খুব কম থাকলে বড় প্লেট খাবার খাওয়ার চেষ্টা না করে অল্প পরিমাণ ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে ডিম কিংবা মাছ খাওয়া যায়। ক্ষুধা ধীরে ধীরে বাড়লে স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণেও ফেরা যেতে পারে।
ফল খাবেন, তবে গোটা ফল
জ্বরের সময় ফল খাওয়া যেতে পারে। পেয়ারা, কমলা, কলা ও আপেলের মতো সহজে খাওয়া যায় এমন ফল বেছে নেওয়া যায়। তবে ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়াই ভালো।
ফলের রসে অনেক সময় বাড়তি চিনি যোগ করা হয়। এ ছাড়া গোটা ফলের মতো এতে আঁশও পাওয়া যায় না। তবে ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পেটের সমস্যা থাকলে ফল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির উপসর্গ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার নয়
জ্বর হলে মুখের স্বাদে পরিবর্তন আসতে পারে। এ সময় ঝাল, ভাজাপোড়া বা মুখরোচক খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলেও এসব খাবার পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, খুব বেশি মিষ্টি এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
জ্বর হয়েছে বলে জোর করে বেশি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। শরীর যতটা নিতে পারছে, অল্প অল্প করে ততটাই খাওয়া আরামদায়ক হতে পারে।
জ্বরে খাবারের সহজ তালিকা
পানি: নিয়মিত পানি পান
তরল: পাতলা স্যুপ, প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন
মূল খাবার: নরম ভাত, খিচুড়ি
প্রোটিন: ডিম, মাছ, ডাল
সবজি: নরম করে রান্না করা সবজি
ফল: সহনীয় গোটা ফল
তবে জ্বর নিজে কোনো একটি রোগের নাম নয়; এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, পানিশূন্যতার লক্ষণ, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ অক্টোবর)
- বাতিল পরীক্ষার নতুন সূচি দিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান