ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
ডায়াবেটিস কেন হয়, লক্ষণ কী এবং নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
ডুয়া ডেস্ক: ডায়াবেটিস বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি ও পারিবারিক ইতিহাসসহ বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ডায়াবেটিসকে মধুমেহ বা বহুমূত্র রোগও বলা হয়। এ রোগে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। খাবার থেকে পাওয়া শর্করা শরীরের কোষে পৌঁছে দিতে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অগ্ন্যাশয় থেকে তৈরি এই হরমোন শরীরে গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে।
কোনো কারণে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ জমতে থাকে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের প্রধান ধরন
ডায়াবেটিসের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দুটি ধরন হলো টাইপ-১ ও টাইপ-২।
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। সাধারণত কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস শুরু হলেও যেকোনো বয়সে এটি হতে পারে।
অন্যদিকে টাইপ-২ ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও সেটি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে না। এই অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। সময়ের সঙ্গে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস ও বয়স। তবে শুধু মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বাড়তে পারে, আর অতিরিক্ত ওজন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে। সন্তান জন্মের পর অনেকের রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হলেও ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বেশি ক্ষুধা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং পায়ের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রাও পরীক্ষা করা উচিত।
ডায়াবেটিসকে ভয় না পেয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ঝুঁকি থাকলে বা কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)