ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ডায়াবেটিস কেন হয়, লক্ষণ কী এবং নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
ডুয়া ডেস্ক: ডায়াবেটিস বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি ও পারিবারিক ইতিহাসসহ বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ডায়াবেটিসকে মধুমেহ বা বহুমূত্র রোগও বলা হয়। এ রোগে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। খাবার থেকে পাওয়া শর্করা শরীরের কোষে পৌঁছে দিতে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অগ্ন্যাশয় থেকে তৈরি এই হরমোন শরীরে গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে।
কোনো কারণে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ জমতে থাকে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের প্রধান ধরন
ডায়াবেটিসের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দুটি ধরন হলো টাইপ-১ ও টাইপ-২।
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। সাধারণত কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস শুরু হলেও যেকোনো বয়সে এটি হতে পারে।
অন্যদিকে টাইপ-২ ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও সেটি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে না। এই অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। সময়ের সঙ্গে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস ও বয়স। তবে শুধু মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বাড়তে পারে, আর অতিরিক্ত ওজন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে। সন্তান জন্মের পর অনেকের রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হলেও ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বেশি ক্ষুধা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং পায়ের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রাও পরীক্ষা করা উচিত।
ডায়াবেটিসকে ভয় না পেয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ঝুঁকি থাকলে বা কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)