×

ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, মাগুরায় ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৯:১৩:২৩

২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, মাগুরায় ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

বিলের হিসাবে দেখা যায়, গত ৮ আগস্ট তাঁর মিটারের রিডিং ছিল ১৬০। ৮ সেপ্টেম্বর সেটি বেড়ে ৩৯৫ হয়। অর্থাৎ এক মাসে তাঁর বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। এই ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ ধরা হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দেখানো হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

বিলে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গ্রাহক আলেয়া খাতুন জানান, বিলটি পাওয়ার পর তিনি বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা বিলটি সংশোধন করে দিলে তিনি ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেন।

অস্বাভাবিক বিলটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানান আলেয়া খাতুন। তাঁর দাবি, তিনি একজন সাংবাদিককে বিলের কপি নিয়ে ছবি তোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে তাঁর অনুমতি ছাড়াই একই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর সঙ্গে কথা না বলেও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আলেয়া খাতুনের ভাষ্য, ঘটনার পর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ফোনটি বিদ্যুৎমন্ত্রী নাকি প্রতিমন্ত্রী করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর দ্রুত বিলটি সংশোধন করা হয়।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জিএম এস এম শাহিন আহসান জেনারেল ম্যানেজার মহিতুল ইসলামের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি শালিখা অফিসের তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

সংশোধিত বিলের হিসাবে গ্রাহক আলেয়া খাতুন ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩০ সেপ্টেম্বর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩০ সেপ্টেম্বর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি... বিস্তারিত