ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
আসল ওষুধ চেনার ৬ উপায়
ডুয়া ডেস্ক: অসুস্থতার সময় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার তাগিদে ওষুধ কিনতে গিয়ে অনেকেই এর মান ও উৎস যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ নকল বা মানহীন ওষুধ চিকিৎসার কার্যকারিতা কমানোর পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ওষুধ কেনার সময় কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
টাটা ১এমজির মেডিকেল অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিকিৎসক রাজীব শর্মা বলেন, মানুষ মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস কিংবা গয়না কেনার সময় বিক্রেতা, দাম, রিভিউ ও পণ্যের নিশ্চয়তা যাচাই করেন। কিন্তু অসুস্থতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে একই ধরনের সতর্কতা অনেক সময় দেখা যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০টি চিকিৎসাসামগ্রীর মধ্যে আনুমানিক একটি নিম্নমানের বা নকল হতে পারে। তাঁর মতে, শুধু প্যাকেট দেখে ওষুধের সত্যতা বোঝার পরিবর্তে এর উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ কেনার আগে ভোক্তাদের ছয়টি বিষয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
১. ওষুধটি কোথা থেকে এসেছে?
লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রস্তুতকারক, অনুমোদিত পরিবেশক অথবা যাচাইকৃত সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। বিশ্বস্ত সরবরাহব্যবস্থা ওষুধের উৎস সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং নকল পণ্য পাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
২. ওষুধটির পরিচয় শনাক্ত করা যায় কি?
প্যাকেটে প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা উচিত। বিশেষ করে ব্যাচ নম্বরের মাধ্যমে মানগত কোনো সমস্যা দেখা দিলে নির্দিষ্ট উৎপাদন ব্যাচ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
৩. ওষুধটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি?
তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সূর্যের আলো ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ওষুধ ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়, আবার কিছু ওষুধের জন্য শীতল ও শুষ্ক পরিবেশ প্রয়োজন। ফলে আসল ওষুধ হলেও ভুলভাবে সংরক্ষণ করা হলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
৪. ওষুধটির মান যাচাই করা হয়েছে কি?
বিশ্বস্ত সরবরাহকারীরা সাধারণত প্যাকেট, মেয়াদ, পণ্যের তথ্য ও মজুত যাচাই করেন। এসব প্রক্রিয়া ভুল বা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
৫. ওষুধ হাতে পাওয়ার পর কী পরীক্ষা করবেন?
প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ওষুধের নাম মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওষুধের শক্তি, ডোজের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করতে হবে। প্যাকেটে ছেঁড়া, খোলা বা কারসাজির কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি।
৬. যেখান থেকে কিনছি, সেই উৎস কি বিশ্বাসযোগ্য?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ওষুধের চেয়ে বিক্রেতাকে ঘিরে। অনলাইন কিংবা সরাসরি—যেভাবেই ওষুধ কেনা হোক, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি বা দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া উচিত। কারণ ওষুধের নিরাপত্তা শুধু কেনার জায়গার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে সরবরাহ, সংরক্ষণ ও মান যাচাইয়ের পুরো ব্যবস্থাটিও জড়িত।
তাই জরুরি প্রয়োজন থাকলেও ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে কয়েক মুহূর্তের সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক চিকিৎসার জন্য ওষুধটি নিরাপদ, মানসম্মত এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত