×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি

২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:১০:৩২

রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বিশেষ কার্গো বিমান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইউরেনিয়াম দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানিবাহী বিমানটি রাশিয়া থেকে ইতোমধ্যে যাত্রা করেছে। ভারত হয়ে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাবে।

ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানির চালান রূপপুরে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থায় ইউরেনিয়াম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে পারমাণবিক জ্বালানি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর শনিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চালানটি রূপপুরে নেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। পরে সময় এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার দুপুরে নির্ধারণ করা হয়। এরপর আবারও সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে জ্বালানি পরিবহনে আর কোনো জটিলতা নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে নয়টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটে ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ বদলাতে হবে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগেই দেশে আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অত্যন্ত স্পর্শকাতর পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জ্বালানি পরিবহনের জন্য রাশিয়া ও বাংলাদেশ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও বিশেষ কারণে তা এক দিন পিছিয়ে যায়।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে।

চলতি মাসে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বুধবার সেফটি ভালভের মেরামতকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে এনপিসিবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

তবে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে ওই ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

ইমামুল

ট্যাগ: রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিড পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ফকির মাহবুব আনাম রূপপুর প্রকল্প পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরের জ্বালানি রসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকায় ইউরেনিয়াম পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি প্রথম ইউনিট দ্বিতীয় ইউনিট রিফুয়েলিং সেফটি ভালভ এনপিসিবিএল ২৪০০ মেগাওয়াট বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ