ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব

২০২৬ মে ৩১ ১২:৪৩:২৭

নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। আলোচনায় থাকা দুটি প্রস্তাবের মধ্যে একটিতে অধিকাংশ গ্রেডে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, অন্যটিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি সামনে এসেছে। তবে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সব গ্রেডে সমানভাবে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর পক্ষেও মতামত রয়েছে।

বর্তমানে আলোচনাধীন প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। একইভাবে ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। আলোচনায় থাকা এ বিকল্প অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। সে কারণে নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা রাখার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশেও সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন সমানুপাতিক হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

পে-স্কেলের নতুন কাঠামোতেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে কোন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি, তবুও আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলো সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এক দশকের মধ্যে সরকারি বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত