ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ, স্বস্তিতে কাটছে যাত্রা

২০২৬ মে ৩১ ১০:৫১:১২

ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ, স্বস্তিতে কাটছে যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে রাজধানী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবী মানুষ ও নগরবাসী ঢাকায় ফিরতে শুরু করলেও এবার ফিরতি পথে দেখা যায়নি চিরচেনা ভিড় কিংবা দুর্ভোগের চিত্র। একই সময়ে অনেকেই আবার পরিবার নিয়ে গ্রামের উদ্দেশেও রওনা হচ্ছেন, ফলে পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে দুইমুখী যাত্রার ব্যস্ততা।

রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই রাজধানীগামী যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকায় কোথাও চাপ সৃষ্টি হয়নি।

গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ঘুরে দেখা গেছে, ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্নভাবেই চলছে। পরিবহন সংকট কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের কোনো লক্ষণ চোখে পড়েনি।

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সদরঘাটে পৌঁছানো কয়েকজন যাত্রী জানান, নৌপথে যাত্রা ছিল আরামদায়ক এবং নির্ধারিত সময়েই বেশিরভাগ লঞ্চ রাজধানীতে পৌঁছেছে। যাত্রী ছিল, তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে কোনো ভোগান্তি হয়নি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা বাসগুলোতেও যাত্রীচাপ ছিল স্বাভাবিক। বাস কাউন্টারগুলোতেও দীর্ঘ অপেক্ষা বা টিকিট নিয়ে কোনো বিড়ম্বনা দেখা যায়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে মানুষ একসঙ্গে না ফিরে ধাপে ধাপে রাজধানীতে ফিরছেন। ফলে অন্যান্য বছরের মতো একদিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি। শেরপুর থেকে আসা একটি বাসের হেলপার রবিউল ইসলাম জানান, যাত্রী রয়েছে, তবে আগের মতো হুড়োহুড়ি বা অতিরিক্ত চাপ এখনো শুরু হয়নি।

এদিকে ঈদের সময় নানা কারণে বাড়ি যেতে না পারা অনেক মানুষ এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। ফলে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে ঢাকামুখী এবং গ্রামমুখী—দুই ধরনের যাত্রীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন ও বিভিন্ন টার্মিনালে এই দ্বিমুখী যাত্রার কারণে কিছুটা ব্যস্ততা থাকলেও কোথাও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রীচাপ দুই দিকে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়েছে।

ফিরে আসা যাত্রীরা জানান, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে দিনের শেষভাগে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি ভোগ করছেন। আগামীকাল থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় বিকেল ও সন্ধ্যার পর রাজধানীতে ফেরার চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত