×

ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের জোগানই বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৬ জুলাই ২১ ১২:১৪:১২

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের জোগানই বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত এক দশকে তা অনুসরণ করা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ অর্থের জোগান একাধিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা অন্তত সাড়ে ১৪ লাখ। নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যয় বাড়লেও সরকারের রাজস্ব আয় সেই হারে বাড়ছে না। ফলে নতুন বাজেটে যে বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করলে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের মতে, দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়া হলেও তারল্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে কঠিন হবে, তা বিএনপি সরকারও স্বীকার করছে। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চায় সরকার বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বিএনপির ইশতেহারে যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সে অনুযায়ী পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরকার একবারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি না করে দুই ধাপে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বৃদ্ধি করা হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ অর্থনীতির চারটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আইএমএফ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে। ফলে ভোগব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সংস্থাটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে... বিস্তারিত