ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলাদেশে তৈরি সাদা গাউন যাচ্ছে বিশ্বের ৩৭ দেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমা নববধূর স্বপ্নের সাদা গাউন তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি কারখানায় নিপুণ হাতে তৈরি এসব গাউন ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা এসব পোশাক পরেই বিশ্বের নানা দেশের কনেরা তাঁদের জীবনের বিশেষ দিন উদযাপন করছেন।
ইপিজেড ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেড কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব গাউন। বিয়ের গাউনের পাশাপাশি এখানে ভেইল, বোলেরো, জ্যাকেট, পেটিকোট, বিয়ের গয়না ও বিভিন্ন ধরনের সন্ধ্যাকালীন পোশাকও তৈরি হচ্ছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা এসব পোশাক জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯৮ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই ৭ লাখ ১২ হাজার ৪১২ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি ৮০ থেকে ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
২০১৯ সালে টঙ্গীতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে ইউবিএফ ব্রাইডাল। বিশেষায়িত এই পোশাক তৈরিতে দক্ষ শ্রমিকের সংকট থাকায় শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। পরে ২০২২ সালে কারখানাটি আদমজী ইপিজেডে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে পাঁচতলা ভবনে পরিচালিত কারখানাটিতে রয়েছে আটটি উৎপাদন লাইন। প্রতিটি লাইনে কাজ করছেন ২৩ জন করে শ্রমিক। সাদা কাপড়ে নিখুঁতভাবে পুঁতি, পাথর, লেস ও জরি বসিয়ে গাউনকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলছেন তাঁরা। কেউ হাতে নকশা করছেন, কেউ মেশিনে কাপড় কাটছেন। আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন মান যাচাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজে। একটি গাউন তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা।
আদমজী ইপিজেডের জুলাই ২০২৬ সালের কোম্পানি প্রোফাইল অনুযায়ী, জার্মান মালিকানাধীন ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেডে প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮৭ মার্কিন ডলার। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছেন ৩৫৭ জন স্থানীয় শ্রমিক। এখানে কোনো বিদেশি কর্মী নেই।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. রবিউল হক সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কর্মীদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নকশা ও দক্ষতা উন্নয়নে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৯২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ইপিজেডে রয়েছে ২৭৬টি শিল্প প্লট। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে ৮৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
বাংলাদেশে তৈরি এসব গাউন যখন ইউরোপ-আমেরিকার কোনো নববধূর বিশেষ দিনের পোশাক হয়ে ওঠে, তখন এর পেছনে থাকে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের দক্ষ হাতের নিপুণতা। পোশাক রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি বিশেষায়িত পণ্যের বৈশ্বিক বাজারেও বাংলাদেশের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে আদমজীর এই কারখানা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীদের দলে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- ঢাবিসহ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর