ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ

২০২৬ মে ২৯ ১৮:৩০:১৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সম্প্রতি ‘SameerScane’ নামক একটি পডকাস্টে দেওয়া কিছু বক্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বক্তব্যের কিছু অংশের ভুল ব্যাখ্যা এবং তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন, তার ওই মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ নিয়ে আলোচনা করা। তবে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে তিনি তার আংশিক বক্তব্যটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পডকাস্টের ওই আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিমালার প্রতিফলন নয়।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি মূলত বলতে চেয়েছি যে, সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।”

গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়া, শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা এবং প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক চর্চা একাডেমিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের চর্চার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও জাতি গঠনে এর অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক। বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে আছেন, তারাও এই লক্ষ্যেই কাজ করছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিবৃতিটির শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে অনেকে অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা মর্মাহত হয়েছেন। এই অনভিপ্রেত ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তিনি বলেন, “যেহেতু আমার আংশিক বক্তব্যটি কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, সেজন্য আমি এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে একটি গবেষণানির্ভর, মেধাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সততা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত