ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা

২০২৬ মে ২৮ ২১:১৫:৪৩

ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছর কোরবানির পশুর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম সরকারিভাবে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেই প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারির মালিকদের কাছ থেকে তারা সেই অনুযায়ী চামড়া বিক্রির নিশ্চয়তা পাননি। বরং ট্যানারি পর্যায়ে আগের বছরের তুলনায় কম দর বলা হয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারাও কম দামে চামড়া কিনছেন।

তবে ট্যানারি মালিকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার চামড়ার দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি রয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। পরে এসব চামড়া কিনে নিচ্ছেন আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সংগৃহীত চামড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেক বিক্রেতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রেতার অপেক্ষায় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গত ১৩ মে খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ বছরের চামড়ার দাম নির্ধারণ করেন। সরকার নির্ধারিত দামে ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ধরা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

সাধারণত বড় আকারের গরুর চামড়া ৩১ থেকে ৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের ২১ থেকে ৩০ এবং ছোট আকারের চামড়া ১৬ থেকে ২০ বর্গফুট হয়ে থাকে।

সে হিসাবে ছোট আকারের লবণযুক্ত চামড়ার দাম হওয়ার কথা ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তবে ঈদের প্রথম কয়েকদিন ব্যবসায়ীরা সাধারণত কাঁচা চামড়া কেনেন। একটি কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৩৫০ টাকা ব্যয় হয়। সেই হিসাবে ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, মাঝারি চামড়া ৯৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা এবং বড় চামড়া ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, মাঝারি চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ চামড়াই ছিল মাঝারি আকারের।

গত বছর একই ধরনের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে এবারও ছাগলের চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। প্রতি পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়, যা গত দুই বছর ধরেও একই অবস্থায় রয়েছে।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা, সংরক্ষণ সমস্যার পাশাপাশি নগদ অর্থের সংকটের কারণে সরকার নির্ধারিত দামের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও চামড়া বিক্রেতাদের বড় অংশ হতাশার মুখে পড়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত