ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্যাশ ডিভিডেন্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিষেধাজ্ঞা

২০২৬ মে ২৫ ১৩:৩৪:৫৬

ক্যাশ ডিভিডেন্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারে নতুন উদ্বেগ এবং নীতিগত সমন্বয়হীনতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অংশীজনদের সাথে আলোচনা না করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গত শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম, তারা চলতি বছর (২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছর) থেকে আর কোনো ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। এছাড়া যেসব ব্যাংকের মূলধন এই সীমার ওপরে, তারাও তাদের মোট ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি নগদ দিতে পারবে না; অবশিষ্ট অংশ স্টক শেয়ার হিসেবে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, বর্তমান দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত।

বাজারের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কার্যকর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র দুটি ব্যাংকের (ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক) পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে আবার ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। ফলে নতুন এই নিয়মের কারণে বাজারের সিংহভাগ ব্যাংকেরই ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেখানে স্টক ডিভিডেন্ডের চেয়ে ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে বেশি উৎসাহিত করে, সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অবস্থান স্পষ্টত একটি নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকই সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে যারা ভালো করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তারাও নিরুৎসাহিত হবে; যা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করেন, ঢালাওভাবে একক মানদণ্ড চাপিয়ে না দিয়ে ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং এনবিআরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে তিনি এই নীতিগত বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম দুজনেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা জানান, শেয়ারবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত এবং বিনিয়োগকারীরা মূলত ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ওপর ভরসা করেই ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ করেন। তাই বাজার ধস এড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে জরুরি সমন্বয় প্রয়োজন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ঈদের আগে আবারও রেকর্ড ছুঁল স্বর্ণের দাম

ঈদের আগে আবারও রেকর্ড ছুঁল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উদযাপনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একঝটকায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত