ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের খাবারে অসাবধানতা: গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

২০২৬ মে ২৮ ১৭:৪৪:৫৯

ঈদের খাবারে অসাবধানতা: গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার এই আনন্দঘন সময়ে পরিবার ও অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা আর গরু-খাসির লোভনীয় সব পদের স্বাদে অবগাহন করতে গিয়ে অনেক সময়ই আমরা খাবারের প্রতি একটু অসাবধান হয়ে পড়ি। আর এই অসতর্ক মুহূর্তেই মাংসের ছোট বা ধারালো কোনো হাড় গলায় আটকে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে কিছু ভুল পদক্ষেপ নেন, যা বিপদ কমানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় কী করা উচিত এবং কী থেকে বিরত থাকা দরকার—তা জানা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, আমরা যখন খাবার খাই তখন মুখ, জিহ্বা এবং গলার পেশিগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় করে খাবারকে খাদ্যনালিতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু মাংস যদি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে চিবিয়ে না খাওয়া হয়, তবে ছোট ও সুচালো হাড় খুব সহজেই গলার নরম টিস্যুতে বিঁধে যেতে পারে। বিশেষ করে তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, খাওয়ার সময় অনবরত কথা বলা, কৃত্রিম দাঁত বা দাঁতের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়া শিশু ও বয়স্কদের মাংস খাওয়ানোর সময় এই বিপত্তি সবচেয়ে বেশি ঘটতে দেখা যায়।

গলায় হাড় আটকে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

শান্ত থাকা: প্রথমত কোনোভাবেই প্যানিকড বা আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

হালকা কাশি দেওয়া: হাড় আটকানোর পরপরই জোরে জোরে না হেসে বা না চিল্লে হালকা করে কাশি দিন। কাশির ধাক্কায় অনেক সময় ছোট হাড় নিজে থেকেই আলগা হয়ে বেরিয়ে আসে।

ধীরে ধীরে পানি পান: কয়েক ঢোক পানি খুব ধীরে ধীরে গিলে খান। পানির প্রবাহে হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে প্রচণ্ড কষ্ট হলে জোর করে পানি খাবেন না।

নরম ও আঠালো খাবার: সামান্য পরিমাণে পাকা কলা কিংবা নরম ও আঠালো ভাতের দলা চিবিয়ে খেলে অনেক সময় হাড়টি ভাতের সঙ্গে পেটে চলে যায়। তবে এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা: অনেক সময় হাড় নেমে গেলেও গলায় সামান্য আঁচড় লাগার কারণে মনে হতে পারে হাড়টি বুঝি এখনো আটকে আছে। তাই কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে অপেক্ষা করে দেখা উচিত অনুভূতিটা কমে কিনা।

ভুলেও যা করবেন না:গলায় হাড় বিঁধলে সবচেয়ে বড় এবং বিপজ্জনক ভুল হলো মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে তা বের করার চেষ্টা করা। এতে নখের আঘাতে গলার ভেতর ক্ষত তৈরি হতে পারে কিংবা হাড়টি আরও গভীরে চলে যেতে পারে। একইভাবে বড় আকারের শুকনা ভাতের দলা বা শক্ত কোনো খাবার জোরপূর্বক গিলে ফেলার চেষ্টা করলে খাদ্যনালি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে ছুটবেন?

যদি হাড় বিঁধার পর নিচের লক্ষণগুলোর কোনো একটিও প্রকাশ পায়, তবে ঘরে বসে না থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে:

শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসা।

কথা বলতে সমস্যা হওয়া বা গলার স্বর বদলে যাওয়া।

নিজের মুখের লালা বা থুতু পর্যন্ত গিলতে না পারা।

বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।

মুখমণ্ডল বা ঠোঁট নীলচে রঙ ধারণ করা।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা সাধারণত আধুনিক এন্ডোস্কোপির সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হাড় বের করে আনেন। মনে রাখবেন, চিকিৎসায় দেরি হলে খাদ্যনালিতে ইনফেকশন বা ক্ষত হয়ে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে হাড়টি খাদ্যনালিতে না গিয়ে শ্বাসনালিতে আটকে গেছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিতে বা কথা বলতে পারছেন না, তবে তাকে দ্রুত সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পিঠে হালকা চাপড় দিতে হবে। যদি আপনার পূর্ব প্রশিক্ষণ থাকে, তবে এই মুহূর্তে ‘হাইমলিখ ম্যানুভার’ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

সর্বোপরি, সচেতনতাই এই বিপদের সবচেয়ে বড় সমাধান। ঈদের খুশি যেন কোনো অসতর্কতায় মাটি না হয়, সেজন্য মাংস খাওয়ার সময় প্রতিটা লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের পাতে হাড় ছাড়া নরম মাংস তুলে দেওয়ার অভ্যাসই আমাদের এই বড় দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানে নতুন করে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন... বিস্তারিত