ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
আপনার মস্তিষ্ক বাঁচাতে এখনই ত্যাগ করুন ৫ অভ্যাস
ডুয়া ডেস্ক: আজকের দ্রুতগামী ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা আমাদের মস্তিষ্কের ওপর অদৃশ্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘মস্তিষ্কের মহামারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত কিছু অজান্তেই গৃহীত অভ্যাস আমাদের স্নায়বিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অভ্যাস থেকে বিরত থাকা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখার একমাত্র উপায়।
চলুন জেনে নিই কোন অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর এবং কোনগুলো আজই ত্যাগ করা উচিত:
১. স্মার্টফোন আসক্তি ও মনোযোগ বিচ্যুতি
ফোনের নোটিফিকেশন বা বেজে ওঠা মুহূর্তেই আমাদের মস্তিষ্ককে তার বর্তমান কাজ থেকে সরিয়ে নতুন বিষয়ে মনোযোগ দিতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার মনোযোগ বিঘ্নিত হলে পুনরায় গভীর মনোযোগ ফিরে পেতে প্রায় ২০ মিনিট লাগে। এই ক্রমাগত ‘সুইচিং’ মস্তিষ্কের গ্লুকোজ রিজার্ভ দ্রুত শেষ করে দেয়, ফলে দিনের অর্ধেক সময়ে মানসিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
পরামর্শ: গভীর মনোযোগের কাজের সময় ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখুন।
২. অনিদ্রা ও অপর্যাপ্ত গভীর ঘুম
গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের ‘গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম’ সক্রিয় হয়, যা ক্ষতিকর বিপাকীয় বর্জ্য দূর করে। কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো ঘুমের প্রাকৃতিক পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়।
পরামর্শ: শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন। ঘুমের ঘর অন্ধকার ও শীতল রাখুন।
৩. তথ্যের অপ্রয়োজনীয় বোঝা (Information Overload)
বর্তমান দিনে আমরা একদিনে এত তথ্য গ্রহণ করি যা ১৮০০-এর দশকে একজন মানুষ তার জীবনে গ্রহণ করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদের সুনামি মানসিক ফিল্টারকে অচল করে দেয়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শক্তি থাকে না।
পরামর্শ: নিউজ ফিড সীমিত করুন, একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম বেছে নিন এবং পড়া সময় ১৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ রাখুন।
৪. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
কাজের চাপ যখন ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়ে, তখন কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায় যা স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পরামর্শ: কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমারেখা টানুন। প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম করুন।
৫. শারীরিক সক্রিয়তার অভাব
দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং স্ট্রেস হরমোন জমা হয়। নিয়মিত নড়াচড়া বা হাঁটাচলা করলে BDNF প্রোটিন তৈরি হয়, যা নিউরনের জন্য ‘প্রাকৃতিক সার’ হিসেবে কাজ করে।
পরামর্শ: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।
মস্তিষ্ক আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সামান্য সচেতন পরিবর্তনই আমাদের এই স্নায়বিক মহামারী থেকে রক্ষা করতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্যয় ৪৭ কোটি টাকা
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২২ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)