ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অতিরিক্ত পানি পান কি মানসিক রোগের লক্ষণ?

২০২৬ জুন ১৩ ১৮:৩০:০৫

অতিরিক্ত পানি পান কি মানসিক রোগের লক্ষণ?

পার্থ হক: পানি আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণত ডায়াবেটিসসহ কিছু শারীরিক সমস্যায় অতিরিক্ত তৃষ্ণা দেখা দিলেও, কোনো শারীরিক রোগ ছাড়াই যদি কেউ মানসিক প্রভাবে অস্বাভাবিকভাবে বেশি পানি পান করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া’।

সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া মূলত একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অবস্থা। এ ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি না থাকলেও মস্তিষ্ক বারবার পানি পানের সংকেত দেয়, যা এক ধরনের বাধ্যতামূলক আচরণ বা ‘কম্পালসিভ বিহেভিয়ার’ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ যেমন সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা তীব্র উদ্বেগে ভোগা রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

অতিরিক্ত পানি গ্রহণের ফলে শরীরে ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ বা পানি বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এতে রক্তে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা কমে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘হাইপোনাট্রেমিয়া’ বলা হয়। সোডিয়ামের ঘাটতির কারণে কোষগুলো, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোষ পানি শোষণ করে ফুলে যেতে পারে, ফলে সেরিব্রাল ইডিমা সৃষ্টি হয়। এতে মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে গিয়ে গুরুতর জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়ার কারণে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা ও বমিভাব, সারাক্ষণ তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা মানসিক বিভ্রান্তি, মাংসপেশিতে দুর্বলতা বা খিঁচুনি, অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ঝুঁকির দিক থেকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও অতিরিক্ত তৃষ্ণা দেখা দিতে পারে। আবার ওজন কমানোর ভুল ধারণা থেকে অতিরিক্ত পানি পান করার অভ্যাসও অনেককে এই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

এই সমস্যার চিকিৎসায় শুধু পানি পানের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর পেছনের মানসিক কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল গ্রহণ, নিয়মিত রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং বা কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি গ্রহণ করলে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, সুস্থ থাকার জন্য পানি জরুরি হলেও তা পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত পানি পানের অভ্যাস দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত