ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকার যেখানে পাওয়া যাবে কম টাকায় স্টাইলিশ গয়না
ডুয়া ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী মার্কেটের পাশের ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি অস্থায়ী গয়নার বাজার। প্রায় ১০০ ফুটজুড়ে দুই পাশে সারিবদ্ধ ছোট ছোট দোকানে সাজানো থাকে নানা ধরনের ফ্যাশনেবল গয়না। কম দামে বৈচিত্র্যময় সংগ্রহের কারণে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই বাজার।
ফুটপাতের দুই পাশের দোকানগুলোতে ঝুলতে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের কানের দুল। রয়েছে অক্সিডাইজ রুপার বড় ঝুমকা, ছোট স্টাড, মুক্তা বসানো ড্রপ ইয়াররিং, জ্যামিতিক নকশার মেটাল দুল, রঙিন পুঁতির মালা, টেরাকোটা পেনড্যান্ট এবং সাদা পাথরের চোকার। পাশাপাশি ধাতব চুড়ি, রেজিনের মোটা বালা, কাপড় মোড়ানো চুড়ি ও বিভিন্ন ডিজাইনের আংটিও পাওয়া যায়।
এই বাজারের অন্যতম আকর্ষণ হলো সাশ্রয়ী দাম। মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে পরার উপযোগী গয়নার সেট পাওয়া যায়। রুপা ও অক্সিডাইজ ফিনিশিংয়ের এসব গয়নায় মিনাকারি, পাথর এবং কৃত্রিম মুক্তার কারুকাজ রয়েছে।
বিভিন্ন নকশার মালা কিনতে খরচ হবে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। এগুলো শাড়ি কিংবা পাশ্চাত্য পোশাক দুই ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। কানের দুলের দাম শুরু ৫০ টাকা থেকে, বড় ঝুমকার জন্য গুনতে হবে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা।
এ ছাড়া বড় পাথর বসানো স্টেটমেন্ট দুলও রয়েছে, যেখানে একাধিক রঙের পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। আংটির দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ব্রেসলেট পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
চুড়ির সংগ্রহেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কাচ, মেটাল ও অ্যান্টিক ডিজাইনের চুড়ি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এক ডজন কাশ্মীরি চুড়ির দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এতে ঘুঙুর যোগ করতে চাইলে অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ টাকা ব্যয় করতে হবে।
দোকানগুলো পাশাপাশি হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বিভিন্ন পণ্যের নকশা ও দাম তুলনা করতে পারেন। অনেকেই তাৎক্ষণিক কেনাকাটার বদলে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখে পছন্দের গয়নাটি বেছে নেন।
বাজারে দেখা যায়, কেউ কানে দুল ধরে আয়নায় মিলিয়ে দেখছেন, কেউ আবার শাড়ির সঙ্গে মানাবে কি না, তা যাচাই করছেন। বিক্রেতারাও ধৈর্যের সঙ্গে একের পর এক পণ্য দেখাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে নতুন নকশার গয়না এগিয়ে দিয়ে জানাচ্ছেন, ‘এটা এখন খুব চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মিথিলা বন্ধুর সঙ্গে গয়না কিনতে এসে বলেন, ‘এক জায়গায় এত অপশন, তাই আগে দেখে নিচ্ছি। আগে দেখা যেত পছন্দ হলেই কিনে ফেলতাম, কিন্তু এখন একটু মিলিয়ে দেখি।’
তার বন্ধু আদৃতা বলেন, ‘অনেক সময় এমনও হয়েছে, প্রথম দোকানির চাওয়া দামের অর্ধেকে গয়না কিনেছি। তাই গয়না বুঝে দরদাম করা জরুরি। কারণ, একই জিনিস আরও কম দামে কেনা সম্ভব।’
গত বছর থেকে এখানে দোকান পরিচালনা করছেন রাকিব হাসান। তিনি বলেন, ‘ভিড় আছে, কিন্তু আগের মতো হুট করে কেনে কম। বেশির ভাগই দেখে যায়, তারপর ঘুরে এসে নেয়।’
বিক্রেতাদের মতে, এই বাজারের বড় অংশের ক্রেতাই তরুণী। চলতি ধারার নকশা এবং তুলনামূলক কম দাম এই দুই কারণে তাদের আগ্রহ বেশি। অনেকে দুল, হার ও বালা একসঙ্গে মিলিয়ে সেট হিসেবে কিনছেন। আবার কেউ শুধু নতুন ডিজাইনের গয়না দেখতে আসেন। বিকেলের দিকে জায়গাটি ছোট হওয়ায় ভিড় কিছুটা বেশি হলেও সেই ভিড়ের মধ্যেই চলে বাছাই, দরদাম এবং পছন্দের গয়না খুঁজে নেওয়ার ব্যস্ততা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- যেভাবে সহজে অনলাইনে দেখবেন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল