ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
অন্যকে হাই তুলতে দেখলে আপনারও কেন হাই ওঠে? জেনে নিন
ডুয়া ডেস্ক: হাই তোলা মানুষের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় আচরণ। ঘুম পেলে, ক্লান্তি এলে কিংবা আলস্য অনুভব করলে হাই ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে আশপাশে কাউকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও অজান্তে হাই উঠে যায় এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। কিন্তু কেন এমন হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
ধরা যাক, অফিসে একটি বৈঠক চলছে। সামনে বসা কোনো সহকর্মী হঠাৎ হাই তুললেন। সেটি দেখার পর মুহূর্তের মধ্যেই আপনারও চোখ ভারী হয়ে আসে, মুখ খুলে যায় এবং বুকভরে বাতাস টেনে আপনিও হাই তোলেন। অনেক সময় ‘হাই তোলা’ শব্দটি শুনলেও একই প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শরীর ক্লান্ত থাকুক বা না থাকুক, এই প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে।
গবেষকদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মস্তিষ্কের ‘মিরর নিউরন’। এই বিশেষ স্নায়ুকোষ অন্যের আচরণ অনুকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যের কথা বলা, চলাফেরা কিংবা অঙ্গভঙ্গির মতো হাই তোলাও মিরর নিউরনের মাধ্যমে অনুকরণ করা হয়। সহানুভূতি, অন্যের উদ্দেশ্য বোঝা এবং দেখে শেখার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও এসব স্নায়ুকোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এ ধারণার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, রক্তে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রার সঙ্গে হাই তোলার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, হাই হলো মস্তিষ্কের একটি ‘কুলিং প্রসেস’।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দিনভর কাজ, মানসিক চাপ ও উদ্বেগে মস্তিষ্কের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। হাই তোলার সময় মুখ বড় করে খুলে বাইরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস শরীরে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশি সংকুচিত হয়ে মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে মস্তিষ্ক কিছুটা শীতল হয়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায় অন্যকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও কেন হাই ওঠে?
গবেষকদের ভাষ্য, এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ক্যামেলিয়ন এফেক্ট’। মানুষের অবচেতন মন আশপাশের মানুষের মুখভঙ্গি, শরীরী ভাষা, অঙ্গভঙ্গি এমনকি কথা বলার ধরনও অজান্তেই অনুকরণ করে। তাই কারও হাই তোলা দেখলে মস্তিষ্কও একই আচরণ অনুসরণ করার সংকেত দেয়। শুধু মানুষের মধ্যেই নয়, অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও এ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
এ ছাড়া গবেষকরা ‘এমপ্যাথি’ বা সহমর্মিতাকেও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যের অনুভূতি উপলব্ধি করার মানসিক ক্ষমতার কারণে কাউকে হাই তুলতে দেখলে মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে নিজেরও হাই আসে। এমনকি মালিককে হাই তুলতে দেখলে পোষা কুকুর বা বিড়ালও অনেক সময় একই প্রতিক্রিয়া দেখায়, যদিও এ বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে এখনো কিছু মতভেদ রয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার বা স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। বিশেষ করে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতির কারণে অন্যকে হাই তুলতে দেখেও তারা অনেক সময় সাড়া দেয় না।
সব মিলিয়ে গবেষকদের মতে, হাই তোলা শুধু ক্লান্তি বা ঘুমের লক্ষণ নয়; এটি মানুষের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- নতুন নিয়মে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪৮ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ১১ আগস্ট
- পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৪১ পদে নিয়োগ
- জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন নভেম্বরে
- এসএসসির ফলাফল দেখবেন যেভাবে