ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
হাসিনাকে ফেরাতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং এর সঙ্গে আদালতও সম্পৃক্ত। এ কারণে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত একটি সেশনে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হলে প্রথমে ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, যা আইনগত ও সুসংগঠিত। সেই প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গেলেনএ প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাঁকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশে তখন যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। পৃথিবীর কোথাও যেন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ওই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারতও এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি নিজেও তখন টেলিভিশনে পরিস্থিতি দেখছিলেন। স্ক্রলে প্রচার হচ্ছিল, শেখ হাসিনা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।
তাঁর ভাষ্য, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। ভারত যদি তাঁকে গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিত, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াত, তা বলা কঠিন ছিল।
তিনি বলেন, ওই সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা ছিল সেটিই। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে যে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে, তা নিজস্ব গতিতেই এগোচ্ছে। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করেন। একইভাবে ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নিজেদের আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যা বললেন ত্রিবেদী
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের কোনো প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও বুঝবেন যে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি কখনোই সামনে আসবে না।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যে ধরনের সম্পর্কই বজায় রাখুক, নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। ভালো প্রতিবেশী হিসেবে পরস্পরের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে কেবল লেনদেনের ভিত্তিতে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন জড়িয়ে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের মানুষ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তিনি ভালোভাবে বোঝেন। তাঁর মতে, দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক বন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মৌলিক।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি বোঝা কঠিন। একদিকে নজরুলগীতি, অন্যদিকে রবীন্দ্রসংগীত। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। এ ধরনের সম্পর্ক দুই দেশের বন্ধনের অনন্য গভীরতাকে তুলে ধরে।
নিরাপত্তা সম্পর্ক ও লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক বিষয় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টিও তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে বোঝেন। তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন না, যেখানে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে মতপার্থক্য নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, একটি পরিবারের মধ্যে যেমন কখনো সমস্যা বা মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে, দুই দেশের সম্পর্কেও তেমন কিছু বিষয় থাকা স্বাভাবিক। কোনো সমস্যা না থাকলে সেটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যও নয়। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই। তবে এসব সমস্যা সমাধানের পথ হলো সংলাপ, আলোচনা, পরামর্শ ও পারস্পরিক যোগাযোগ। আর এ সংলাপের ভিত্তি হলো আস্থা।
দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষ্য, দূরত্ব বজায় রেখে কোনো সম্পর্কের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময়ই একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুই দেশের মানুষের ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা তিনি দেখতে পাচ্ছেন। এ কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ