×

ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে কমবে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৪:৩২:১৭

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে কমবে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বিবাহসংক্রান্ত অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও অননুমোদিত বহুবিবাহ ঠেকানো সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর মতে, বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও, প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা যাবে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা।

মন্ত্রী বলেন, ‘এর ফলে প্রতিবছর কতটি বিবাহ হচ্ছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে কি না এবং বিবাহ-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ ও যাচাই সহজ হবে।’

তিনি জানান, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে কোনো ব্যক্তি আগে বিবাহ করেছেন কি না, করে থাকলে কতটি বিবাহ করেছেন এবং নতুন বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।

এতে তথ্য গোপন করে বিবাহ, গোপন বিবাহ এবং পরবর্তী সময়ে বিবাহ অস্বীকারের সুযোগ কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি, একজন নারী বা পুরুষ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বিবাহের তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এর ফলে বহুবিবাহের প্রবণতাও কমবে বলে তিনি জানান।

বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য সংরক্ষণের আরেকটি সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা যাবে। এতে এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সম্ভাবনাও কমবে।

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অনলাইন বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে আসবে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজন কমে আসবে।

পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টসহ অন্যান্য সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি তথ্যব্যবস্থাগুলো সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত করা গেলে নাগরিকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। বিশ্ব দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে পাঁচ জেলার ২৭ জন বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) অংশ নিচ্ছেন। অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা সমাজে একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষণ নেওয়া নিকাহ রেজিস্ট্রাররা নিজেরা দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অন্যান্য নিকাহ রেজিস্ট্রারদেরও প্রস্তুত করবেন বলে জানান মন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, নিয়মনীতি অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে। নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উত্তরসূরিরাও যাতে এ পেশায় আসার সুযোগ পান, সে জন্য যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লবসহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত