×

ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১১:০২:৪০

বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শান্তি ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি শান্তি ও উন্নয়নকে ভিত্তি করে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।

সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ধারণের জন্য পদ্মা-স্প্যানিশ প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সবুজ শহর ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই দেশের মানুষের সেবা করবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের লক্ষ্য। এজন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করতে হবে। সংকটের শুরু মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।

বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সাগর বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে বহুমাত্রিকভাবে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান বন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। তাঁর মতে, শান্তি, উন্নয়ন ও অর্থবহ আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল নাগরিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত