ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাহাবুদ্দিনের অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগটি কী, জানুন বিস্তারিত

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৭:২০:০৭

সাহাবুদ্দিনের অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগটি কী, জানুন বিস্তারিত

ডুয়া ডেস্ক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের একটি রোগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ রোগের কারণে তিনি প্রায়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর পর থেকেই অটোনমিক নিউরোপ্যাথি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কী এই রোগ, কেন হয় এবং এর চিকিৎসা কী এসব বিষয় নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

মানবদেহে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে। সাধারণ পেরিফেরাল নার্ভ যেমন হাত-পা ও ত্বকের সংবেদন মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়, তেমনি অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। পাকস্থলী, অন্ত্র, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, মূত্রথলি, জননেন্দ্রিয় এবং রক্তনালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যকারিতা এ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

বিভিন্ন কারণে এই স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অন্যতম প্রধান কারণ। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসকে অটোনমিক নিউরোপ্যাথির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তাঁর ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথিতে কী হয়

অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ। এ দুটি স্নায়ু বিভিন্ন অঙ্গ থেকে তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় এবং মস্তিষ্কের নির্দেশ সংশ্লিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়। ফলে এ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের একাধিক অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

পাকস্থলী ও অন্ত্র: পাকস্থলীর সংকোচন-প্রসারণ ও অন্ত্রের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় খাবার পাকস্থলীতে আটকে থাকা, ক্ষুধামন্দা এবং কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যের পর ডায়রিয়া হতে পারে।

মূত্রতন্ত্র: মূত্রথলির স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিংবা মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জননাঙ্গ: পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের অন্যতম কারণ হতে পারে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি।

হৃদ্‌যন্ত্র: হৃৎস্পন্দনের স্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটে। বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে, যাকে রেস্টিং ট্যাকিকারডিয়া বলা হয়। এটি রোগটির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি।

রক্তনালি: এ রোগে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রক্তনালিতে। স্বাভাবিকভাবে বসা বা শোয়া থেকে দাঁড়ালে রক্তচাপ কিছুটা কমে গেলেও স্নায়ুতন্ত্র তা দ্রুত স্বাভাবিক করে। কিন্তু স্নায়ুর কার্যকারিতা ব্যাহত হলে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একে বলা হয় পোস্টুরাল হাইপোটেনশন।

ত্বক: ত্বকের তাপমাত্রা ও ঘাম নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দেয়। ফলে অতিরিক্ত বা কম ঘাম হওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং গরম-ঠান্ডা অনুভবের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কেন হয় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। এ ছাড়া অ্যামাইলোডোসিস, গুলেন-ব্যারি সিনড্রোমের মতো স্নায়ুরোগ, কিছু সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ এবং কেমোথেরাপির পরও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা কী

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ওষুধ এবং জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানো, প্রয়োজন হলে লাঠি বা সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা এবং রাতে ঘুমানোর সময় পায়ে স্টকিং ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মূত্রথলির সমস্যায় সেলফ-ক্যাথেটারাইজেশন বা প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা হয়। পাশাপাশি পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ধরনের ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত