ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

তাপপ্রবাহে নারীদের ঝুঁকি কেন বেশি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

২০২৬ জুলাই ২৯ ১৪:৩৪:০১

তাপপ্রবাহে নারীদের ঝুঁকি কেন বেশি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ডুয়া ডেস্ক: তাপপ্রবাহের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরবৃত্তীয় ও হরমোনজনিত নানা কারণে পুরুষদের তুলনায় নারীদের হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর তাপপ্রবাহের চাপ বেশি পড়ে। ফলে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস)-এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিঘত আরিফ বলেন, নারীদের বেশি গরম লাগার পেছনে প্রধান দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো হরমোনের মাত্রার স্বাভাবিক ওঠানামা, আর দ্বিতীয়টি তাপের প্রতি শরীরের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঘাম কম হয় এবং তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় ঘাম নিঃসরণ শুরু হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। এই চর্বি শরীরের তাপ ধরে রাখার আস্তরণ হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি মাসিক চক্র, পেরিমেনোপজ, মেনোপজ, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান করানোর সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

আর্থসামাজিক অবস্থাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কম আয়ের পরিবারে অনেক নারী পরিবারের সদস্যদের সেবাযত্নে ব্যস্ত থাকায় গরমের সময় নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ কম পান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপের প্রতি সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। যেহেতু নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বেঁচে থাকেন, তাই বয়সজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। রোগ, বার্ধক্য কিংবা কিছু ওষুধের প্রভাবেও তাপজনিত চাপ বেড়ে যেতে পারে।

মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরের তাপমাত্রাও ওঠানামা করে। মাসিক শুরুর আগে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক নারীর গরম বেশি লাগে এবং ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ে। অন্যদিকে মাসিক শুরু হলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এতে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এ সময় তীব্র গরমে ক্লান্তি, অবসাদ, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি হট ফ্ল্যাশ ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ডা. নিঘত আরিফ জানান, মাসিকের সময় রক্তপাতের কারণে শরীর থেকে আয়রন বেরিয়ে যায়, যা ঘুম ও অক্সিজেন পরিবহনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং প্রচণ্ড গরমে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

পেরিমেনোপজ ও মেনোপজে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হট ফ্ল্যাশ ও রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া সাধারণ সমস্যা। তাপপ্রবাহের সময় এসব উপসর্গ আরও বেড়ে যায়। প্রচলিত হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) কিছুটা উপকার করলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না।

গর্ভাবস্থায়ও অতিরিক্ত গরমজনিত শারীরিক চাপ বা ‘হিট স্ট্রেস’-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় বিপাকীয় তাপ উৎপাদন এবং শরীরের তরলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শুরু ও মাঝামাঝি সময়ে প্রোজেস্টেরনের ওঠানামা শরীরকে আরও বেশি গরম অনুভব করাতে পারে। শেষ পর্যায়ে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করলেও মা ও গর্ভস্থ শিশুর ওপর অতিরিক্ত তাপের প্রভাব থেকে ঝুঁকি থেকেই যায়।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে হৃদ্‌রোগজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে, যা নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি। তীব্র গরমে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে ‘হিট এক্সজশন’ বা অতিরিক্ত গরমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

হিট এক্সজশনের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ঘাম, শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এসব উপসর্গ গুরুতর আকার ধারণ করলে তা ‘হিট স্ট্রোক’-এ পরিণত হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার বিষয় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত