ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
দাঁড়ালেই মাথা ঘোরা কেন হয়? জানুন কারণ ও প্রতিকার
পার্থ হক: হঠাৎ করে সোফা বা বিছানা থেকে দাঁড়ানোর পর চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়া বা কয়েক সেকেন্ড মাথা ঘোরা এ ধরনের অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে। নামাজে সেজদা থেকে ওঠার সময় কিংবা ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার সময়ও এমন ঝিমঝিম অনুভূতি দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’, অর্থাৎ শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার সমস্যা। এটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
মানুষ শোয়া বা বসা অবস্থান থেকে হঠাৎ দাঁড়ালে অভিকর্ষের প্রভাবে শরীরের রক্ত নিচের দিকে সরে যায়। এতে সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। সুস্থ শরীরে স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয় হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে এবং রক্তনালি সংকুচিত করে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেরি হলে মাথা ঘোরা বা অন্ধকার দেখার অনুভূতি তৈরি হয়।
মূল কারণগুলো হলো
১. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ কমে যায়, যা এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
২. রক্তস্বল্পতা ও ডায়াবেটিস: আয়রনের ঘাটতি বা দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমিয়ে এ ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৩. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা মানসিক রোগের কিছু ওষুধ দ্রুত রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।
৪. স্নায়বিক রোগ: পারকিনসন বা মাল্টিপল সিস্টেম অ্যাট্রোফির মতো রোগে স্নায়ুতন্ত্র রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সময় নেয়।
৫. কানের সমস্যা: শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে কান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; কানের সমস্যাতেও এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
প্রতিকারে করণীয়
ধীরে ধীরে ওঠা: হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে। প্রথমে কিছুক্ষণ বসে পা নাড়ানো এবং তারপর ধীরে দাঁড়ানো ভালো। বিছানা ছাড়ার সময় এক পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকা উপকারী।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ-পানির ভারসাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে বজায় রাখতে হবে।
পেশির ব্যায়াম: দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে এক জায়গায় স্থির না থেকে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হালকা ওঠানামা করা যেতে পারে।
খাবারের অভ্যাস: একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস রাখা ভালো।
যদি এ ধরনের মাথা ঘোরা বারবার হয়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একজন নিউরোলজিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেন। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনই এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)