ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি? কারণ হতে পারে কোষীয় শক্তির ঘাটতি

২০২৬ জুলাই ২৩ ১৭:০৭:৪৮

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি? কারণ হতে পারে কোষীয় শক্তির ঘাটতি

ডুয়া ডেস্ক: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, তবে এর কারণ শুধু মানসিক চাপ বা ব্যস্ত জীবনযাপন নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকতে পারে কোষীয় ক্লান্তি (সেলুলার ফ্যাটিগ), যা শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সাধারণভাবে অনিদ্রা, অতিরিক্ত কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে প্রতিদিন একই ধরনের ক্লান্তি অনুভূত হলে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও শক্তি ফিরে না এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদনের কাজ করে। একে শরীরের ‘শক্তিঘর’ও বলা হয়। কোনো কারণে মাইটোকন্ড্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারলে কোষ পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না। এ অবস্থাকেই কোষীয় ক্লান্তি বলা হয়।

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত বা ভালো মানের ঘুমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং বার্ধক্যের কারণে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এর ফলে সারাদিন শক্তিহীন লাগা, সামান্য কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া কিংবা কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লান্তির পেছনে সাধারণত একটি নয়, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুম, কোষের মেরামত এবং শক্তি উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

তাদের মতে, ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়; এ সময় শরীর ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে এবং বিপাকক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। তাই দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকলেও ঘুমের মান ভালো না হলে ক্লান্তি দূর হয় না।

এ ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা না করলে রক্তসঞ্চালন কমে যায় এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতাও দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম শক্তি উৎপাদন বাড়াতে এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষীয় ক্লান্তির লক্ষণ শুরুতে খুব সূক্ষ্ম হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, শক্তি কমে যাওয়া এবং স্বাভাবিক কাজের পরও ধীরে সুস্থ হওয়া এসবই এর সাধারণ লক্ষণ।

তারা আরও জানান, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম, স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ, অটোইমিউন রোগ, বিষণ্নতা এবং দ্রুত বার্ধক্যের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে ক্লান্তি থাকলেই যে এসব রোগ রয়েছে, এমনটি নয়।

দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হলে নিজে থেকে কারণ অনুমান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের ব্যাধি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণেও একই ধরনের ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আন্তর্জাতিক বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

ডুয়া ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থা আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক... বিস্তারিত