ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জেনে নিন বালিশের নিচে রসুন রেখে ঘুমালে কী হয়

ইনজামামুল হক পার্থ

রিপোর্টার

২০২৬ জুন ১১ ২১:১৮:১৭

জেনে নিন বালিশের নিচে রসুন রেখে ঘুমালে কী হয়

রসুন দীর্ঘদিন ধরেই শুধু রান্নার উপাদান নয়, বরং নানা স্বাস্থ্যগুণের জন্যও পরিচিত। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মসলা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। অনেকেই সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়ার অভ্যাস করেন, কারণ এটি সর্দি-কাশি কমাতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

রসুনে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত পরিশুদ্ধ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক হিসেবেও পরিচিত।

বিভিন্ন ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত রোগ যেমন নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, হাঁপানি ও হুপিং কাশি প্রতিরোধে রসুনের উপকারিতার কথা বলা হয়ে থাকে। যক্ষ্মা রোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকেরা অনেক সময় খাদ্যতালিকায় কয়েক কোয়া রসুন রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রসুনকে অনেকেই প্রাকৃতিক সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করেন। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি কার্যকর বলে ধরা হয়। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণেও রসুনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে পেটের মেদ কমানোর ক্ষেত্রে।

কাঁচা রসুনে থাকা সালফার শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। এটি হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। ফলে শরীরের বেসাল মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি পেয়ে ওজন কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাচীন ইউরোপীয় সমাজে বালিশের নিচে এক কোয়া রসুন রেখে ঘুমানোর একটি প্রচলিত রীতি ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, এতে বিভিন্ন ধরনের উপকার পাওয়া যায়।

তাহলে প্রশ্ন হলো, বালিশের নিচে রসুন রেখে ঘুমানোর সঙ্গে কী ধরনের উপকারের সম্পর্ক রয়েছে?

অনিদ্রার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া টোটকা হিসেবে পরিচিত। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়, রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান ঘুমের সময় এর গন্ধের মাধ্যমে শ্বাসনালীর স্বস্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে বন্ধ নাক খুলতে সহায়তা করে এবং আরামদায়ক ঘুমে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে নাক ডাকা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়া বালিশের নিচে রসুন রাখলে মশা-মাছিও দূরে থাকে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

রসুনে ভিটামিন বি১ ও বি৬ থাকার কারণে এটি মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়। মেলাটোনিন স্নায়ুকে শান্ত রাখতে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে বলে জানা যায়। ফলে নিয়মিত এই অভ্যাস করলে সকালে শরীর বেশি সতেজ অনুভূত হতে পারে।

আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যালেক্স হায়ারের মতে, বিশ্বের অনেক সংস্কৃতিতে রসুনকে অশুভ শক্তি বা নেতিবাচক প্রভাব দূরে রাখার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। যদিও বিষয়টি মূলত লোককথা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এসব ঘরোয়া পদ্ধতির পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত হলেও রসুনের সংস্পর্শে থাকার কিছু ইতিবাচক দিক নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে। তাই অনেকেই রাতে বালিশের নিচে এক কোয়া কাঁচা রসুন রেখে ঘুমানোর অভ্যাস অনুসরণ করেন, যা তাদের মানসিকভাবে ইতিবাচক অনুভূতি দিতে পারে এবং ভালো থাকার অনুভব বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত