ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নারীদের যৌন আগ্রহ বাড়ে, পুরুষদের সমস্যা বৃদ্ধি পায়: গবেষণা

২০২৬ জুন ০৫ ২০:০০:১৮


নারীদের যৌন আগ্রহ বাড়ে, পুরুষদের সমস্যা বৃদ্ধি পায়: গবেষণা

ডুয়া ডেস্ক: বন্ধ্যাত্বকে ঘিরে নারীকে অধিক দায়ী করার প্রচলিত ধারণা থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পুরুষদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রভাব অনেক গভীর। বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব শনাক্তের পর দম্পতিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যৌন জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। যেখানে অনেক নারী সন্তান প্রত্যাশায় সম্পর্কের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন, সেখানে পুরুষদের মধ্যে যৌন আগ্রহ হ্রাসসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রবণতা দেখা দেয়, যেমন দ্রুত বীর্যপাত ও উত্থানজনিত দুর্বলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দম্পতি গর্ভনিরোধক ছাড়া এক বছর চেষ্টা করেও সন্তান না পেলে তাকে বন্ধ্যাত্ব হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ দম্পতি এ সমস্যায় ভুগছেন বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায়, বন্ধ্যাত্বের কারণ সমানভাবে বিভক্ত। প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষজনিত, ২৫ শতাংশ নারীর কারণে, ২৫ শতাংশ উভয়ের সমস্যাজনিত এবং বাকি ২৫ শতাংশ অজানা কারণে ঘটে। আবার কিছু গবেষণায় এই হারকে এক-তৃতীয়াংশ করে পুরুষ, নারী এবং উভয় বা অজানা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিচালিত এক গবেষণায় বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ের পর দম্পতিদের মানসিক অবস্থা ও সম্পর্কগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন ধারণা ছিল নারীরাই বেশি সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়েন, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে যৌন সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা দেয়।

গবেষণার তথ্যমতে, বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ের পর পুরুষদের ৩৭.৫ শতাংশ কোনো না কোনো যৌন সমস্যায় আক্রান্ত হন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ১৩.৯ শতাংশ। এর মধ্যে প্রধান সমস্যা হিসেবে উত্থানজনিত দুর্বলতা ও দ্রুত বীর্যপাত উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া গবেষণায় আরও দেখা যায়, সন্তান না হওয়ার চাপ পুরুষদের আত্মমর্যাদা ও সামাজিক পরিচয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কেও জটিলতা তৈরি হয়। নারীদের ক্ষেত্রে আবার সন্তান অর্জনের লক্ষ্যে যৌন সম্পর্কে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সেক্সুয়াল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি বিএমইউ, বারডেম উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এতে মোট ৬৫৮ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৩২০ জন পুরুষ এবং ৩৩৮ জন নারী ছিলেন।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান। তিনি বলেন, বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ের পর পুরুষদের মধ্যে মানসিক চাপ, আত্মসম্মানহীনতা এবং সামাজিক সংকোচ বেড়ে যায়, যা তাদের যৌন ও দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষকরা জানান, অনেক পুরুষ রোগ নির্ণয়ের পর নিজেকে অক্ষম ভাবতে শুরু করেন, যার ফলে তাদের যৌন আগ্রহ কমে যায় এবং দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। অন্যদিকে নারীরা সন্তান প্রত্যাশায় আরও বেশি মানসিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।

পুরো গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌন সমস্যার হার নারীদের তুলনায় বেশি এবং দাম্পত্য সমন্বয়েও তারা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ্যাত্ব কেবল শারীরিক নয়, বরং এটি একটি মানসিক ও সামাজিক সমস্যা।

গবেষকরা আরও বলেন, ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায় কেবল শারীরিক চিকিৎসা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও যৌন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে দম্পতিদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে বন্ধ্যাত্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং চিকিৎসার সফলতা বাড়ানো সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত