ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. মহসিনা আক্তার খানমকে (লীনা তাপসী খান) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগীত বিভাগের অধ্যাপক পদ থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির তারিখ অর্থাৎ গত ১৩ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়-দেনা পরিশোধ সাপেক্ষে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেনা-পাওনার হিসাব অবিলম্বে জানানো হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
মহসিনা আক্তার খানম ২০১০ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই থেকে তিনি অধ্যাপক হিসেবে অবেক্ষাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর চাকরিকাল ১৫ বছর ৬ মাস ২২ দিন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যান অধ্যাপক ড. মহসিনা আক্তার খানম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ মাস ১৭ দিন অর্জিত ছুটি মঞ্জুরসহ কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তিনি ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত আরও ১ মাস ১৩ দিন অর্জিত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এক বছর বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুরের আবেদন করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর ওই আবেদন অনুমোদন করেনি। তাঁর অর্জিত ছুটির মেয়াদ ১২ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। তাঁর কোনো বন্ড পিরিয়ড নেই বলেও জানা গেছে।
এদিকে, গত ৫ মের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইস্যুর তারিখ অর্থাৎ ১৮ মে থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে ড. মহসিনা আক্তার খানমকে বিভাগীয় কাজে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে কাজে যোগ দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আট সপ্তাহের নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ৬ জুলাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আবেদন করেন।
সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়-দেনা পরিশোধ সাপেক্ষে অধ্যাপক পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য ড. মহসিনা আক্তার খানমের প্রসঙ্গ ওঠে। সভায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ
২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক থাকাকালে ড. মহসিনা আক্তার খানমের বিরুদ্ধে পিএইচডি অভিসন্দর্ভে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল। পরে তদন্তে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক ইফফাত আরা নার্গিস। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিষয়টি তদন্তের জন্য লিখিতভাবে তৎকালীন উপাচার্যকে জানানোর পরও চার মাসে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তখন এক সংবাদ সম্মেলনে ইফফাত আরা নার্গিস তাঁর লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সংগীতের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে তিনি লীনা তাপসী খানের ‘নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ বইটি সংগ্রহ করেন। বইটি পড়ে তাঁর আগে পড়া তিন-চারটি গ্রন্থের সঙ্গে বেশ কিছু অংশের হুবহু মিল খুঁজে পান বলে দাবি করেন তিনি, যা তাঁর মতে চৌর্যবৃত্তি।
তিনি আরও বলেন, ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি লীনা তাপসী খানের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের ভিত্তিতে রচিত ‘নজরুল সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ গ্রন্থে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্তের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছিলেন। তবে তাতেও কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মহসিনা আক্তার খানমের পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ইফফাত আরা নার্গিস বইটির ৩৮টি জায়গা উল্লেখ করে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আনেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ৪২ লাইন, তৃতীয় অধ্যায়ে ৭ লাইন, চতুর্থ অধ্যায়ে ২৬ লাইন, পঞ্চম অধ্যায়ে ৬ লাইন, ষষ্ঠ অধ্যায়ে এক লাইন, দশম অধ্যায়ে ১২৬ লাইন, একাদশ অধ্যায়ে ১২২ লাইন, ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ৬৫ লাইন এবং চতুর্দশ অধ্যায়ে ৫৩ লাইন বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে তথ্য নির্দেশ ছাড়া হুবহু নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এসব লাইন রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’ ও ‘নজরুল-গীতিকা’, ইদ্রিস আলীর ‘নজরুল সংগীতের সুর’, স্বরলিপিকার জগত ঘটক ও কাজী অনিরুদ্ধের ‘নবরাগ’, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘নজরুল সৃষ্ট রাগ ও বন্দিশ’ এবং কাকলী সেনের ‘ফৈয়াজী আলোকে নজরুলগীতি’সহ বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক অভিযোগ করেছিলেন, ২৮০ পৃষ্ঠার গ্রন্থে ৮০ পৃষ্ঠার স্বরলিপি স্ক্যান করে মূল পাঠ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যা অনৈতিক। তাঁর দাবি ছিল, ২৭৭ পৃষ্ঠার বইয়ের ১৬৯ পৃষ্ঠাই লীনা তাপসী খানের রচনা নয়; বরং সেগুলো অন্যের গ্রন্থ থেকে হুবহু নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যেও চৌর্যবৃত্তি থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে লীনা তাপসী খানের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল, ডিগ্রি প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি, গ্রন্থটি বাতিল এবং ওই গ্রন্থের জন্য পাওয়া লীনা তাপসী খানের নজরুল পদক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন ইফফাত আরা নার্গিস।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- নতুন নিয়মে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
- যেভাবে সহজে অনলাইনে দেখবেন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই