ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের যে ক্ষতি হয়
ডুয়া ডেস্ক: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কম্পিউটার, মোবাইল ফোন কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিন ব্যবহার করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আসার পর ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতাও আরও বেড়েছে।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে আসা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও ঘাড়ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটিকে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল স্ক্রিন সিনড্রোম বলা হয়।
চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আই
চোখ খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। চোখের সম্মুখভাগে থাকা স্বচ্ছ পর্দা বা কর্নিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও মসৃণ। এর প্রধান কাজ হলো চোখে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে সাহায্য করা। কর্নিয়ার স্বচ্ছতা ও মসৃণতায় কোনো ব্যত্যয় ঘটলেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কর্নিয়া মসৃণ রাখার ক্ষেত্রে চোখের পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পলক ফেলার মাধ্যমে চক্ষুকোটরে তৈরি হওয়া পানি চোখের উপরিভাগে সমভাবে ছড়িয়ে দেয় চোখের পাতা। চোখের উপরিভাগে সমভাবে বিস্তৃত এই পানির স্তরকে বলা হয় টিয়ার ফিল্ম। কোনো কারণে চোখের পানি কম তৈরি হলে বা টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখে শুষ্কভাব দেখা দেয়। তখন চোখে জ্বালাপোড়া ও চুলকানিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটিই শুষ্ক চোখ।
ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে কেন চোখে শুষ্কতা দেখা দেয়?
চোখের উপরিভাগে থাকা টিয়ার বা চোখের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। একই সঙ্গে কর্নিয়ায় থাকা স্নায়ুর মাধ্যমে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিতে সংকেত যায়। এরপর দ্রুত টিয়ার প্রবাহিত হয়ে ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। চোখের পাতা প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বারের মতো পলক ফেলে টিয়ার ফিল্ম ঠিক রাখে।
তবে ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ রাখলে পলক ফেলার হার অর্ধেকের বেশি কমে যায়। ফলে টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখে শুষ্কভাব অনুভূত হয়। শুষ্কতার কারণে কর্নিয়ার স্নায়ুকোষগুলো জ্বালাপোড়া ও ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় তা তীব্র অস্বস্তির কারণ হতে পারে এবং কাজেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
করণীয় কী?
চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। যেমন-
স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরাল থেকে কিছুটা নিচুতে রাখতে হবে।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা চোখের জন্য আরামদায়ক হতে হবে।
২০ মিনিট পরপর বিরতি নিতে হবে।
স্ক্রিনটি চোখের খুব কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত ২০-২৮ ইঞ্চি দূরে রাখা ভালো।
চোখ ভেজা রাখতে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে।
ঘুমের ঘাটতি রাখা যাবে না। রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার উচিত নয়।
ঘন ঘন পানি খেতে হবে।
নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ঘাড়ের ব্যায়ামও করতে হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত