ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার যে ভয়ংকর ক্ষতি হয় শরীরে

২০২৬ আগস্ট ১৪ ১৬:৫৮:১০

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার যে ভয়ংকর ক্ষতি হয় শরীরে

ডুয়া ডেস্ক: আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতি ও কম্পিউটারনির্ভর জীবনযাত্রায় দিনের বড় একটি সময় চেয়ারে বসেই কাটে। সকালে অফিসের ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ চালু করা থেকে শুরু করে টানা ৮-১০ ঘণ্টা বসে কাজ করা অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) একাধিক গবেষণায় এ নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ‘সিটিং ইজ দ্য নিউ স্মোকিং’—অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব ধূমপানের অভ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে তুলনীয়।

তবে এ দাবি কতটা যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার শারীরিক প্রভাব ও ধূমপানের সঙ্গে এর তুলনামূলক বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজের শারীরিক ঝুঁকি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় দীর্ঘ সময় অলস বা স্থবির হয়ে বসে থাকার কুফলকে ‘সিটিং ডিজিজ’ বলা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মেটাবলিজম ও ফ্যাট বার্নিং ধীর হয়ে যাওয়া: চেয়ারে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পায়ের বড় বড় পেশির তড়িৎ সচলতা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শরীরে ক্যালোরি খরচের হার প্রতি মিনিটে মাত্র ১ ক্যালোরিতে নেমে আসে এবং ফ্যাট ভাঙার উৎসেচক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। এতে দ্রুত মেদ বাড়ে এবং মেদভুঁড়ি দেখা দিতে পারে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি: দীর্ঘ সময় বসে থাকলে রক্তসঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং রক্তনালিতে চর্বি জমার সুযোগ তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, যারা দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি বসে থাকেন, তাঁদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ হয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের আশঙ্কা: অবিরাম বসে থাকার কারণে কোষের ইনস্যুলিন সংবেদনশীলতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে অগ্ন্যাশয়কে বেশি ইনস্যুলিন তৈরি করতে হয়, যা দ্রুত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে পরিণত হতে পারে।

মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কোমরের স্থায়ী ক্ষতি: অনবরত ডেস্কে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কোমরের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়। পরে এটি সাইয়াটিকা, ডিস্ক প্রোল্যাপ্স এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাক পেইনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বসে থাকা কি সত্যিই ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর?

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাবকে ধূমপানের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি বুঝতে এর পেছনের মূল বার্তাটি জানা জরুরি। ধূমপানে সরাসরি ক্ষতিকর নিকোটিন ও কার্সিনোজেন শরীরে প্রবেশ করে, যা ক্যানসার ও ফুসফুসের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সঙ্গে ধূমপানের তুলনার মূল কারণ হলো এর ‘নীরব ও সার্বজনীন প্রভাব’।

ধূমপান সবাই করেন না। কিন্তু বিশ্বের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। ফলে পরোক্ষভাবে স্থূলতা, হৃদরোগ ও অকালমৃত্যুর চালিকাশক্তি হিসেবে বসে থাকা ধূমপানের চেয়েও বড় মহামারির রূপ নিয়েছে।

আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, দিনে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করলেও বাকি ৮-৯ ঘণ্টা একটানা বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি দূর হয় না।

বসে কাজের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর উপায়

বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে প্রতি আধ ঘণ্টা পরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো যেতে পারে। মাত্র ২ মিনিটের জন্য হাঁটাহাঁটি করা কিংবা কিছুটা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। কাজের ফাঁকে হেঁটে হেঁটে ফোনে কথা বলা অথবা কিছু সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার অভ্যাস করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করাও জরুরি। বেশি পানি পান করলে স্বাভাবিকভাবেই ঘন ঘন উঠতে হয়, যা হাঁটাচলার সুযোগ তৈরি করে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের দেশের বাজারে বাড়ল সোনার দাম

ফের দেশের বাজারে বাড়ল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে টানা তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা... বিস্তারিত