ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট কি সবার জন্য নিরাপদ? জানুন বিশেষজ্ঞের মত
ডুয়া ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন ফিশ অয়েল বা কড লিভার অয়েল সাপ্লিমেন্ট একটি নিরীহ ‘জাদুকরী’ ওষুধ, যা শরীরকে মুহূর্তেই চনমনে করে তোলে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয়তা ছাড়া বা কেবল শখের বসে এই পিল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। সামুদ্রিক মাছের তেলের নির্যাস হিসেবে এই সাপ্লিমেন্টটি জনপ্রিয় হলেও এটি ব্যবহারের আগে এর প্রকৃত উপযোগিতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ থেকে সংগৃহীত এই তেলের প্রধান উপাদান হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মূলত ইকোসাপেন্টায়েনোইক অ্যাসিড (EPA) এবং ডোকোসাহেক্সায়েনোইক অ্যাসিড (DHA) এর সমন্বয়ে গঠিত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে এই উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিক উৎস বা সরাসরি মাছ থেকেই গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিশ অয়েল পিল কোনো ম্যাজিক পিল নয় যা খেলেই দ্রুত স্মৃতিশক্তি বা এনার্জি বেড়ে যাবে। বরং যারা নিয়মিত সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন মাছ খান, তাদের জন্য আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কোনো বিশেষ প্রয়োজনীয়তা নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে, যাদের কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা স্বাভাবিক, তাদের জন্য এই কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এটি পথ্য হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অনেক বেশি, যারা দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে ভুগছেন কিংবা যারা একদমই সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন না কেবল তাদের জন্যই চিকিৎসকরা ফিশ অয়েল পিলের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। বিশেষজ্ঞের তদারকি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ফিশ অয়েল খেলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো জটিল রোগের কারণে নিয়মিত রক্ত পাতলা করার (Blood Thinner) ওষুধ সেবন করছেন, তাদের জন্য এই সাপ্লিমেন্ট অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা