ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইফতারে কেন দই-চিড়া খাবেন?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:০৩:০৬

ইফতারে কেন দই-চিড়া খাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ তেরো থেকে চৌদ্দ ঘণ্টা রোজার পর শরীরের পুষ্টি ও পানির চাহিদা মেটানো অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশে ঐতিহ্যবাহী ইফতারে প্রায়ই বেগুনি, পিঁয়াজু ও আলুর চপ থাকে। তবে এই তেল-মশলাযুক্ত খাবারগুলো খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ক্লান্তি কমাতে এবং শরীরকে প্রাণচঞ্চল রাখতে দই-চিড়া হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও সহজপাচ্য বিকল্প। এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং হজম সহজ করে।

চিড়া মূলত শুকনো চাল থেকে তৈরি একটি সহজপাচ্য শর্করা, যা ইফতারের পর দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে পুনরায় চনমনে করে। অন্যদিকে দই প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক হিসেবে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। বিশেষ করে টক দই হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

দই ও চিড়া একসঙ্গে খেলে ক্ষুধা মেটে, শরীরের অভ্যন্তরীণ পানির অভাব পূরণ হয় এবং ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, চিড়ার পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের পরিমাণ কম, তাই কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি নিরাপদ। আঁশের পরিমাণ কম থাকায় অন্ত্রের প্রদাহ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ডাইরিয়া প্রতিরোধেও সহায়ক।

চিড়ার প্রোটিন সহজে শোষণযোগ্য হওয়ায় পাকস্থলীর সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা সহজেই খেতে পারেন। তবে উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর পরিমাণ বুঝে খাওয়া উচিত।

রমজানে দইয়ের ‘ট্রিপটোফ্যান’ মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনতে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখে এবং পেশি গঠনে সহায়তা করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য দই-চিড়া দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ইফতারে প্রতিদিন দই-চিড়া অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাদ বাড়াতে এতে যোগ করতে পারেন কলা, খেজুর বা সামান্য মধু। এটি ইবাদতে মনোযোগ বাড়িয়ে শরীর ও মনের প্রশান্তি নিশ্চিত করে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত