ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৬:২৩:৫৩

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই বৈধ চ্যানেলে দেশে এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মোট প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। আর সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এসেছিল গত বছরের মার্চে, মূলত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের ওই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

রিজার্ভ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহারের উপযোগী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকার ও বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ধীরে ধীরে গতি ফিরেছে। অর্থ পাচার কমে যাওয়া, হুন্ডি লেনদেনের প্রভাব হ্রাস এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত