ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
৪ মাসে দুই হাজার বদলি, চক্রের পকেটে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ
ডুয়া ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিকে ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চার মাসে প্রায় দুই হাজার শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরের পছন্দের বিদ্যালয়ে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই শূন্যপদ না থাকলেও প্রেষণ বা সংযুক্তির মাধ্যমে এসব বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে হাতে আসা শতাধিক বদলির আদেশ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার পরিবর্তে অধিকাংশ আদেশই অফলাইনে জারি করা হয়েছে। যদিও বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক বদলির আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা।
সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ডেকে বদলি কার্যক্রমে অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী বদলি প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় এই চার স্তরের কমিটি গঠন করা হয়। ২১ জুন এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষক বদলিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জানান, নতুন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে তদবির ও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কমে আসে।
বদলির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বাধিক বদলি হয়েছে মার্চ মাসে, যেখানে ৯৪৪টি আদেশ জারি করা হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাসেও বিপুলসংখ্যক বদলি হয় এবং জুনের ২০ তারিখ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলতে থাকে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগেও আন্তঃউপজেলা, আন্তঃজেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বদলির একাধিক আদেশের তথ্য মিলেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, বদলির অনুমোদন মন্ত্রণালয় থেকে আসে, অধিদপ্তর শুধু তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে পাঠায়। কেন অনলাইন প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বদলি করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয় দিতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেসব বদলির আদেশ হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং প্রতিটি আদেশের রেফারেন্স সংরক্ষিত রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়ার মতে, প্রচলিত অনলাইন ব্যবস্থা এড়িয়ে হাতে হাতে বদলির আদেশ জারি হওয়া পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার ভাষায়, এটি শুধু নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, ডিজিটাল প্রশাসন ও সুশাসনের লক্ষ্যকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: আগামীর সময়
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে যা জানা গেল
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- চার পদে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ
- বাংলাদেশ স্কাউটসে নবম গ্রেডে চাকরির সুযোগ
- ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এআই কর্মশালা আয়োজন
- বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫
- টাকার বিনিময়ে ১২০০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন