ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বন্যার পানি নামলেও বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, মৃ’ত্যু ৫৪ জন

২০২৬ জুলাই ১৪ ০৯:৫৩:২৬

বন্যার পানি নামলেও বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, মৃ’ত্যু ৫৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, অবকাঠামো ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌর এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয় এবং মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। চট্টগ্রাম জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। এছাড়া বান্দরবানে ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন, রাঙামাটিতে মারা গেছেন তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা মোকাবিলায় ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১৬ হাজার ৮২১ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার আমচাষিরা। নতুনপাড়া এলাকার চাষিদের দাবি, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বাগানেই অনেক আম পচে গেছে। বন্যার কারণে সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ২৮১টি বসতবাড়ি, ২১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়িঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৯২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫টি পোলট্রি খামার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মারা গেছে প্রায় ৪৪ হাজার মুরগি এবং শতাধিক গরু-ছাগল। গবাদিপশুর প্রায় ৫০ হাজার টন শুকনা খাদ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রায় পাঁচ হাজার একর কাঁচা ঘাসের জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বন্যার পানি কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত