ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
সরকার জুলাই সনদের ভিত্তিতেই কাজ করবে: তথ্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন সংবিধান প্রণয়নই একমাত্র পথ নয়; সংশোধনীর মাধ্যমেও রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদের ভিত্তিতেই কাজ করবে। তবে সংবিধান সংশোধনের কিছু বিষয়ে সরকারের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে গণভোটের বিধানও যুক্ত করা যেতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন-এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমেই ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে এর কিছু অংশ বাতিল হয়, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনও অতীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরে আসাও সংশোধনীর মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এসব পরিবর্তন আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী, সংস্কার-এটা আসলে শব্দের বিষয়। আমাদের মূল সমস্যাটা কোথায়, কতটুকু-সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি নির্বাচনের আগে এবং সরকার গঠনের পরও স্পষ্টভাবে বলেছে, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই তারা কাজ করবে। সংসদে যে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই সরকার কাজ করবে। তবে সংবিধান সংশোধনের কিছু বিষয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে উচ্চকক্ষ বা আপার হাউজ গঠনের বিষয়টি বলা যায়। উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংবিধান সংশোধনে সবাই একমত। তবে এটি কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে বিএনপি ও বর্তমান সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই এ বিষয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। বিএনপি জনগণকে আগেই এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে, সেই অবস্থান নিয়েই ভোট চেয়েছে এবং নির্বাচিত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রয়োজনে গণভোটের বিধানও আবার যুক্ত করা যেতে পারে। আগে এটি বাতিল হয়েছিল। গণভোট প্রয়োজন হলে হবে। সংশোধনের আগেই আমরা একটি গণভোট করেছি, পরে নির্বাচন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেটও পাওয়া গেছে। এগুলো বড় ধরনের সাংবিধানিক বিতর্কের বিষয়। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নিয়মিত এ বিষয়ে কথা বলেন।’
সংসদীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সংসদে অংশ নিয়ে যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা। কোনো প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাস না হলেও জনগণের সমর্থন আদায় করতে পারলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এভাবেই মতপার্থক্য ও নীতিগত বিতর্কের সমাধান হয়।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা
- জাপানের MEXT স্কলারশিপ পেলেন ১৬৬ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ আগস্ট)
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে যা জানা গেল
- রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- চার পদে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ
- স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- বাংলাদেশ স্কাউটসে নবম গ্রেডে চাকরির সুযোগ
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ