ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
আমদানি সহজ করতে নতুন নীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋণপত্র বা এলসি খোলার কড়াকড়ি শিথিল, আমদানি সহজীকরণ ও মুক্ত বাণিজ্য নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে নতুন নীতিতে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এর ফলে ২০২১-২৪ সালের আমদানি নীতি বাতিল হয়ে গেল।
নতুন নীতিতে বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ ও ব্যাংকিং জটিলতা কমাতে বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বহুমাত্রিক সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তৈরির জায়গা রাখা হয়েছে নতুন আদেশে।
আগের আমদানি নীতি আদেশে ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত ছিল। নতুন আদেশে এ সুযোগ আরও বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সাযুজ্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়া নির্দিষ্ট মূল্যসীমার মধ্যে পণ্য আমদানি করতে পারতেন। আগের আমদানি নীতি আদেশে এ ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত আমদানির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে আলাদা সীমাও ছিল। নতুন আদেশে এই মূল্যসীমা পুরোপুরি তুলে ‘সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের’ মাধ্যমে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) ও ‘সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ প্রতিষ্ঠার বিধিমালা যুক্ত করা হয়েছে নতুন নীতিতে।
নতুন নীতিতে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। অনুমোদিত শিল্পের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আধুনিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে শিল্প ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নীতিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সঙ্গে বৈশ্বিক মান সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) আলোচনায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। যেসব প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক বাজারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে, তারা এগিয়েও থাকবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- মাসে ২৫০০ টাকা বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন অর্থসচিব
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারী
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ