ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং পাঁচজনকে সর্বনিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত মঙ্গলবার অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বিএসইসি।
ওই ঘটনার পর গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী ঘটনা তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত পরিচালনার পাশাপাশি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর একজন কর্মকর্তা আগে থেকেই অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিএসইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবারই তাঁদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে বাধ্যতামূলক অবসর ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক চিঠি তাঁরা বুধবার হাতে পান। অনেক কর্মকর্তা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি গ্রহণ করেন।
কী ঘটেছিল গত বছরের ৫ মার্চ
গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই অবস্থান নেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া এবং তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। ঘটনার প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে কয়েক দিন ধরে বিএসইসিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং সাবেক কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে সভা চলছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জোরপূর্বক সেখানে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্তরা কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও কমিশনের লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে বিএসইসিতে অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম
- যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি