ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

১৮০ দিনের লক্ষ্যের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ আগস্ট ১৮ ২১:৫০:২১

১৮০ দিনের লক্ষ্যের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ‘জিরো আউট অব স্কুল চিলড্রেন’। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার বয়সসীমার কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যালয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুদের বিস্কুট বা এক প্যাকেট দুধ দেওয়ার বিষয়টি বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনে রয়েছে বিস্তৃত পরিকল্পনা ও গবেষণা। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তদারকি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, মাঠপর্যায়ে তাঁরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলো কেন্দ্রকে জানাতে হবে। শুধু কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বাস্তবে কী ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলোর সমাধান কীভাবে করা যায় এবং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার উপায় কী এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ একই লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত