×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত ছাড়ার আলোচনায় কমল তেলের দাম

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৭:০১:৩৭

অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত ছাড়ার আলোচনায় কমল তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতিরিক্ত ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার খবরের পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ডিজেলের দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশের বেশি। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮৩ ডলার বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৫২ ডলার।

চলতি সপ্তাহেও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ধারায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ডব্লিউটিআইয়ের দরপতন হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ডিজেলের দামের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ইউরোপীয় গ্যাসঅয়েল ফিউচারও ৫ শতাংশের বেশি কমে মেট্রিক টনপ্রতি ১ হাজার ৩৭৭ ডলারে নেমেছে।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘পুরো জ্বালানি বাজারই নিম্নমুখী। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে গ্যাসঅয়েল ও ইউএলএসডি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের মজুত ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। এর লক্ষ্য বাজারের তীব্র সংকট কমানো এবং সম্ভাব্য মার্কিন ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা।’

শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো অতিরিক্ত ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ফ্রান্সের দেওয়া একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষাপটেই ওই প্রস্তাব সামনে এসেছে। জ্বালানির বাড়তে থাকা দাম কমাতে ইউরোপের দেশগুলোকে বাজারে আরও জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মজুত থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্যদের মজুত থেকে আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান।

হ্যানসেনের ভাষ্য, ‘এটি দেখাচ্ছে, জ্বালানি বাজারের মূল চাপ এখন আর অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা নিয়ে নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধার হচ্ছে। বরং পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহই এখন বড় সংকটের জায়গা। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় শোধনাগারের সক্ষমতা ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের শোধনাগারগুলো অক্টোবর মাসে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে। অভ্যন্তরীণ মজুত ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর পরের লেনদেন পর্বে তেলের দাম বেড়েছিল।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজারের মতো সেনা পাঠাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলা চালানোর বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবেচনা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। পাইপলাইন ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ বেড়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত