ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ভূমিসেবা উন্নয়নে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১২:১৭:৩৫

ভূমিসেবা উন্নয়নে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমিসেবার মান বাড়ানো, নাগরিকদের হয়রানি কমানো এবং দালালমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলো নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক জেলার ভূমি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে মাঠপর্যায়ের সব ভূমি অফিসের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ভূমিসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, নাগরিক হয়রানি কমানো, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা

১. ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে।

২. ভূমি সংক্রান্ত আবেদন, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা, রেকর্ড সংশোধনসহ অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৩. ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ আইসিটি-ভিত্তিক সেবাগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

৫. দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. সেবা প্রদানের নির্ধারিত ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ যথাযথভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

৮. অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য বোর্ড, নাগরিক সনদ, সেবার মানদণ্ড ও নির্দেশনা হালনাগাদ আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

৯. সরকারি সম্পদ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগ ও অন্যান্য আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে।

১১. ভূমি আইন, বিধি, পরিপত্র ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

১২. ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

১৩. আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। পরিদর্শনে সমস্যা, অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা শনাক্ত হলে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

১৪. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরাসরি তদারকি, কার্যকর নেতৃত্ব ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার মান উন্নয়ন, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত