ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল তুলে ধরলেন ঢাবি উপাচার্য

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৭:৩৯:১৯

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল তুলে ধরলেন ঢাবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত দুটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে দেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপাচার্য যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF)-এর কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ার ভিকি হার্টজলারসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। একই সফরে তিনি ‘গ্লোবাল ফেইথ ফোরাম’-এ বিশেষ বক্তা হিসেবে ভাষণ প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন।

USCIRF-এর সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিকড় অত্যন্ত গভীরে। দেশের সাম্প্রতিক কিছু সহিংসতার ঘটনা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৭৪টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টির সরাসরি ধর্মীয় কারণ ছিল। বাকি অধিকাংশ ঘটনাই রাজনৈতিক প্ররোচনা, ভূমি-বিরোধ বা স্থানীয় দ্বন্দ্বের ফল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো পদ্ধতিগত আক্রমণের প্রমাণ নেই।

উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃধর্মীয় ঐক্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাম্পাসে পূজা, ঈদ ও বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসবগুলো অত্যন্ত উৎসবমুখর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।

আঞ্চলিক রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন সংবেদনশীল সময় হলেও সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সম্ভাবনা কম। তিনি সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি ‘কেন্দ্রীয় একাডেমিক মনিটরিং সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং ‘মারাকেশ ঘোষণা’র নীতিমালা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সুপারিশ করেন।

গ্লোবাল ফেইথ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শতাব্দীকাল ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এ অঞ্চলে সুফি ঐতিহ্যের মাধ্যমে ইসলামের শান্তিপূর্ণ প্রসারের ফলে সহাবস্থানের এক অনন্য মডেল তৈরি হয়েছে। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদারে তৌহিদ-ক্রিস্টেনসেন বৈঠক

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদারে তৌহিদ-ক্রিস্টেনসেন বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হলো।... বিস্তারিত