ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

হামাসকে সমর্থনের অভিযোগে হার্ভার্ডের ফান্ডিং স্থগিত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৪:১৫:০৪

হামাসকে সমর্থনের অভিযোগে হার্ভার্ডের ফান্ডিং স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে চলমান সব ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ ও সার্টিফিকেট কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হার্ভার্ডের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন এমন এক মতাদর্শিক প্রবাহে আক্রান্ত, যা ‘ভয়াবহ’ এবং ‘উদারপন্থি উগ্রবাদে’ পরিপূর্ণ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হেগসেথ জানান, পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনীকে এমন রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল ও বিজনেস স্কুলে পরিচালিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ওপর। বিশেষ করে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফেলোস প্রোগ্রাম’ বাতিল হওয়ায় সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পিট হেগসেথের অভিযোগ, হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ও অবদানকে সম্মান জানানোর বদলে তা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে হামাসপন্থি আন্দোলনের উত্থান এবং ইহুদিবিদ্বেষ দমনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাও এই সম্পর্ক ছিন্নের অন্যতম কারণ।

এদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং পেন্টাগনের অর্থায়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হার্ভার্ডের জন্য শুধু ভাবমূর্তির সংকট নয়, বরং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের এই চাপকে নতুন এক ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে দেখছেন তারা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত