ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

আইজিপির পাসপোর্ট বদল ও নতুন গুঞ্জন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৩:১৯:৪৭

আইজিপির পাসপোর্ট বদল ও নতুন গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তার একটি সিদ্ধান্ত প্রশাসনে নানা আলোচনা তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মর্যাদার লাল পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম।

সম্প্রতি তিনি নিজের ব্যবহৃত সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের ইচ্ছা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সচিবালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা।

আইজিপির চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি। এই অবস্থায় নির্বাচন-পূর্ব সময়ে হঠাৎ করে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার আবেদন কেন তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে লাল পাসপোর্ট সমর্পণ ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে সম্প্রতি বিধিনিষেধ শিথিল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাড়াই সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল হলেও আগের সরকারের আমলের কূটনৈতিক পাসপোর্টের বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাহারুল আলম নিজ উদ্যোগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আবেদন করেন। এ বিষয়ে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) চেয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হিসেবে ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি বিনীতভাবে অনুরোধ করছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটে পড়া পুলিশ বাহিনীকে সামাল দিতে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বাহারুল আলমকে আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২১ নভেম্বর তাকে চুক্তিভিত্তিক পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তার দায়িত্বকাল রয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি মইনুল ইসলাম ৩০তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকলে বাহারুল আলমের আরও কয়েক মাস দায়িত্বে থাকার কথা। ফলে এত আগে সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, নির্বাচনের পরপরই তিনি দেশ ছাড়তে পারেন এমন আলোচনা প্রশাসনের ভেতরে শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দল তার অপসারণের দাবিও তোলে। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমর্থনে নির্বাচন পর্যন্ত তার চুক্তি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির পাসপোর্ট বদলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আইজিপির হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, “কি প্রশ্ন উঠেছে?” পরে প্রতিবেদক নির্বাচনের পর দেশ ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেও তিনি আর কোনো উত্তর দেননি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

সংঘর্ষের পর, থমথমে শাহবাগে বাড়তি নিরাপত্তা

সংঘর্ষের পর, থমথমে শাহবাগে বাড়তি নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একদিন পর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় কার্যত স্থবির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার... বিস্তারিত