ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তি চলবে না: ফরহাদ মজহার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:০৫:৫০

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তি চলবে না: ফরহাদ মজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরকে শুধু অর্থনৈতিক স্থাপনা হিসেবে দেখলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে কোনো গোপন চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণের সামনে প্রকাশ্যভাবে নিতে হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বন্দর সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক অবকাঠামো নয়, এটি জনগণের সম্পদ এবং একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। ফলে বন্দরের বিষয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা চুক্তি করা যেতে পারে না। জনগণকে অবহিত করেই এ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সভায় তিনি আরও বলেন, বন্দরের বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা একটি বড় ভুল। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জনগণের সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমলাদের একক সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। জনগণের মতামত ও সম্মতি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি।

বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল, বন্দর শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।

চুক্তি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ফলে বন্দর অচল হওয়ার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপানো হতে পারে। ভবিষ্যতে দক্ষতা ও অদক্ষতার প্রসঙ্গ তুলে চুক্তির পক্ষে যুক্তি তৈরি করা হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রকৃত প্রশ্ন হলো—দেশ কেন নিজস্ব শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে পারছে না এবং বন্দর ব্যবস্থাপনাকে কেন পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।

চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোনো সামরিক সংকট বা জরুরি অবস্থা জারি হলে তখন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা নেই। শুরু থেকেই তিনি বলে আসছেন, বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের হৃদপিণ্ডের মতো একটি স্থাপনা। এর কাছেই বঙ্গোপসাগর অবস্থিত, যেখানে বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বন্দর সুরক্ষিত না থাকলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, ৫ আগস্টের পর জনগণের হাতে যে ক্ষমতা এসেছিল, তা আবার পুরনো ব্যবস্থার হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সরকার বা রাষ্ট্র চাইলে জনগণের মতামত ছাড়াই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশিদের কাছে ইজারা দিতে পারছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত