ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ভাত খেলেই কি ভুঁড়ি বাড়ে? জানালেন পুষ্টিবিদ
ডুয়া ডেস্ক: ভুঁড়ি কমাতে অনেকেই সবার আগে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেন। তাদের ধারণা, ভাতই পেটের মেদ বাড়ার প্রধান কারণ। তবে এই প্রচলিত ধারণার সঙ্গে একমত নন পশ্চিমবঙ্গের পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ। তার মতে, শুধু ভাত নয়; শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণই ওজন ও ভুঁড়ি বৃদ্ধির মূল কারণ।
ভুঁড়ি নিয়ে অনেক পুরুষই উদ্বিগ্ন থাকেন। অনেকে মনে করেন, পেটের অতিরিক্ত মেদ শুধু সৌন্দর্য নয়, আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। এ কারণে কেউ নিয়মিত ব্যায়াম করেন, কেউ খাদ্যাভ্যাস বদলান, আবার কেউ ওজন কমানোর বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।
ভুঁড়ি কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বাদ দেওয়া। অনেকের বিশ্বাস, ভাত খাওয়া বন্ধ করলেই পেটের মেদ কমে যাবে। তবে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ বলেন, ওজন বা ভুঁড়ি বৃদ্ধির জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারকে দায়ী করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, শরীরের ওজন একদিনে বাড়ে না। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে। তাই শুধু ভাত খাওয়ার কারণেই ভুঁড়ি হয়—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্যালোরির দিক থেকে সাদা ভাত পুরোপুরি নির্দোষও নয়। এটি একটি রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় দ্রুত হজম হয় এবং খাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইন্দ্রাণী ঘোষের ভাষ্য, এক কাপ ভাত আর এক বাটি ভাতের ক্যালোরি এক নয়। ভাতের পরিমাণ যত বাড়বে, ক্যালোরিও তত বাড়বে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করে অতিরিক্ত ভাত খেলে তা ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ভাত নয়, ভাতের সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বেশি তেল, ঘি বা চর্বিযুক্ত তরকারির সঙ্গে ভাত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে, যা মেদ ও ভুঁড়ি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষের মতে, সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইস তুলনামূলক ভালো বিকল্প। এতে আঁশ বেশি থাকায় এটি ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বৃদ্ধি পায় না।
তিনি বলেন, ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রাখলে ওজন বৃদ্ধি বা ভুঁড়ি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। একই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও উন্নত হয়।
সবশেষে তিনি পরামর্শ দেন, কোনো একটি খাবারকে দায়ী না করে সব ধরনের পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি পরিমিত খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ঢাবি প্রো-ভিসি
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- তৃতীয় লিঙ্গদের হেনস্তার শিকার ডাকসু নেতা জুবায়ের