ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

আদা-মধু-কালিজিরার আসল উপকারিতা জেনে নিন

২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২০:৪৮:৪৯

আদা-মধু-কালিজিরার আসল উপকারিতা জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সকালের শুরুটা স্বাস্থ্যকর করার উদ্দেশ্যে অনেকেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন পরামর্শ অনুসরণ করে কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত উপাদান আদা, মধু ও কালিজিরা নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব উপাদানের উপকারিতা, প্রয়োজনীয়তা ও সঠিক ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। বিষয়টি তুলে ধরেছেন রাফিয়া আলম।

তিনি জানান, আদা, মধু ও কালিজিরা তিনটিই শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালে এসব উপাদান গ্রহণ করলে অনেকেই সতেজ অনুভব করেন। পাশাপাশি ক্ষুধা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, যা পরবর্তীতে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এগুলো কখনোই মূল খাবার বা নাশতার বিকল্প নয়।

আদা ও কালিজিরা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটির প্রবণতা কিছুটা কমাতে পারে। কালিজিরা চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়, আর আদা মাসিকের ব্যথা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে মধু অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তবে এসব উপাদান আলাদাভাবে প্রতিদিন গ্রহণ করা সব সময় জরুরি নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রান্নায় আদা ও কালিজিরার ব্যবহার সাধারণত থাকায় অতিরিক্ত গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না। মধু আবার মৌসুমভেদে ভিন্ন প্রভাব ফেলে শীতকালে উপকারী হলেও গরমে অতিরিক্ত গ্রহণে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, আদা, মধু ও কালিজিরা কোনো জাদুকরি উপাদান নয়, যা একাই পূর্ণ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম জীবনধারা, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক স্বস্তি এবং পর্যাপ্ত ঘুম। এসব উপাদান গ্রহণ করলেও তা পরিমিত পরিমাণে হওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। মধুর অতিরিক্ত ব্যবহার রক্তে শর্করা ও ক্যালরি বাড়াতে পারে, যা ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য এসব উপাদান নিয়মিত গ্রহণ নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এমনকি সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন একটানা না খেয়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেওয়া ভালো বলে পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত