ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

অতিরিক্ত সম্পদে মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন আসে

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৬:২৪:৪৪

অতিরিক্ত সম্পদে মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন আসে

ডুয়া ডেস্ক: অনেকের ধারণা, অর্থ ও বিলাসিতাই সুখের চাবিকাঠি। কিন্তু বাস্তবতা ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত সম্পদ সব সময় মানসিক শান্তি বা পরিতৃপ্তি এনে দেয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে ধন-সম্পদ মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচরণে এমন পরিবর্তন আনে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

অতিধনী বা উচ্চবিত্তদের মধ্যে কিছু সাধারণ মানসিক বৈশিষ্ট্য প্রায়ই দেখা যায়

১. সহানুভূতির ঘাটতি

অনেক সময় ধনী মানুষরা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম থেকে দূরে থাকেন। ফলে অন্যের কষ্ট বা বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ কমে যায় এবং সহানুভূতির মাত্রাও কমে যেতে পারে।

২. নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবা

সমাজে অতিরিক্ত গুরুত্ব পাওয়ার কারণে অনেকের মধ্যে ‘আমি অন্যদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ এমন ধারণা তৈরি হয়। এতে অহংবোধ বাড়ে এবং নিজের মতামতকেই সর্বাধিক সঠিক মনে করার প্রবণতা দেখা যায়।

৩. ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থাকায় অনেক ধনী ব্যক্তি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। হারানোর ভয় কম থাকায় তারা অনেক সময় সাহসী, কখনও বেপরোয়া সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন।

৪. সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়া

অতিরিক্ত সম্পদ মানুষকে সমাজের বড় অংশ থেকে আলাদা করে ফেলতে পারে। নিজের শ্রেণির বাইরে অন্যদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের প্রবণতাও দেখা যায়। এতে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা সীমিত হয়ে পড়ে।

৫. একাকিত্বের অনুভূতি

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ধনী মানুষ প্রকৃত সম্পর্কের অভাবে ভোগেন। তারা প্রায়ই মনে করেন, অন্যরা ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদের কাছে আসে। ফলে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং একাকিত্ব বাড়ে।

তবে এই প্রবণতাগুলো সবার ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্য নয়। অনেক ধনী মানুষ আছেন যারা সহানুভূতিশীল, সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত এবং অন্যদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী। তাই সম্পদ নয়, বরং মানুষের মানসিকতা ও মূল্যবোধই শেষ পর্যন্ত তার জীবন ও সম্পর্কের মান নির্ধারণ করে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত