ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের ৪০ শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

২০২৬ মার্চ ০১ ২২:৪০:২৪

ইরানের ৪০ শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর পরিচালিত ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর শুরুর মাত্র এক মিনিটেই দেশটির ৪০ জন সামরিক ও নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল।

রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি চিরতরে নস্যাৎ করতেই এই ‘আগাম হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি তেল আবিবের।

আইডিএফ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে সুনির্দিষ্টভাবে এই হামলা চালানো হয়। যে সময় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাতজন সদস্য একটি বৈঠকে সমবেত হয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে আঘাত হানে ইসরায়েলি মিসাইল।

নিহতদের তালিকায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, এর আগে জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর মুসাভিকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া আইডিএফ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যার দাবি করেছে।

আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের শুরুতেই তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের অধিকাংশ রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে তেহরানের আকাশে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ইরানের প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বিশেষ করে কোমের কাছে থাকা বিশাল একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বিস্ফোরকসহ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের এই অভিযানের সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে বড় ধরনের সামরিক কার্যক্রম শুরু করেছে। জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০০টি ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের এই সমন্বিত আক্রমণে ইরানের কমান্ড চেইন বা নেতৃত্ব ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করছে ইসরায়েল।

এদিকে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরানও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেও পুরো ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ইসরায়েল এই ‘ডেকাপিটেট স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনাকে তাদের আধুনিক সমর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত